OIC
ইতিহাস

OIC কী বা OIC সম্পর্কে কি জান?

Organization of Islamic Co-Operation সংক্ষেপে OIC কে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হয়। মুসলিম বিশ্ব সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং উন্নয়নকে সুসংহত করার জন্য এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১. OIC এর পরিচয়ঃ ১৯৬৭ সালের ৫ জুন ফিলিস্তিনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় আরব ইসরাইল যুদ্ধের গোড়াপত্তন ঘটে। মিশর, সিরিয়া ও জর্ডানের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে যুদ্ধে ইসরাইল বেশ কিছু আরব ভূমি দখল করে নেয়। নিরাপত্তা পরিষদের আহবানে ১ জুন, ১৯৬৭ সালে এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। এরপর ১৯৬৯ সালের ২১ আগস্ট ইসরাইল জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলমানদের প্রথম কাবা মসজিদুল আকসায় আগুন লাগিয়ে দেয়। মুসলিম বিশ্ব এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ১৪টি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কায়রোতে এক বৈঠকে সম্মিলিত হয়। এ বৈঠকে সৌদি আরব সমগ্র বিশ্বের মুসলমান প্রধানদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব উত্থাপন করলে উপস্থিত সকল পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সমর্থন জ্ঞাপন করে। ফলে সৌদি আরব, মরক্কো, ইরান, পাকিস্তান, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া ও মালয়েশিয়াকে নিয়ে শীর্ষ সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে উক্ত কমিটির সদস্যগণ মরক্কোর রাজধানী রাবাতে মিলিত হয়ে শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে। অতি দ্রুতগতিতে ১৯৬৯ সালে ২২-২৫ সেপ্টেম্বর রাবাতে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং সম্মেলনের শেষ দিন ২৪টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে OIC আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। OIC এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিল ২৪টি দেশ। বর্তমানে এর সদস্য ৫৭টি দেশ। সৌদি আরবের জেদ্দায় এর সদর দপ্তর অবস্থিত।

২. OIC এর পর্যবেক্ষণ সংস্থাঃ OIC এর পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো হলো-

(ক) জাতিসংঘ।

(খ) ন্যাম।

(গ) আফ্রিকান ঐক্য সংস্থা।

(ঘ) ইকো।

৩. OIC এর লক্ষ্যসমূহঃ ১৯৭২ সালে গৃহীত চার্টারে OIC নিম্নলিখিত লক্ষ্যসমূহ গ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি বা অভিমত ব্যক্ত করে।

(ক) সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে ইসলামিক সংহতি সুদৃঢ়করণ।

(খ) অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত এবং অন্যান্য মৌলিক ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।

(গ) বর্ণগত বৈষম্য ও বিরোধ দূরীকরণ এবং সকল ঔপনিবেশিকতা তথা সাম্রাজ্যবাদের মূলোৎপাটনের চেষ্টা করা।

(ঘ) মুসলমানদের পবিত্র স্থান ও নিদর্শনসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

(ঙ) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

(চ) মুসলিম দেশগুলোর স্বাধীনতা রক্ষার্থে সহযোগিতা করা।

(ছ) অমুসলিম দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।

OIC যদি তার লক্ষ্যসমূহ পূরণ ও সফল করতে চায় তাহলে সর্বপ্রথম প্রয়োজন হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সচেতনতা বৃদ্ধি ও একাগ্রতা দৃঢ় করে তোলে। পারিবারিক সন্দেহ, ঘৃণা, সংঘাত পরিহার ও পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সোচ্চার হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *