সেভার্স চুক্তি কি?

সেভার্স চুক্তি

অতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ নিজেদের অস্তিত্বের জন্য যেমন যুদ্ধ করেছে তেমনি যুদ্ধের বীভৎসতা ও ভয়াবহতা মানুষকে শান্তি স্থাপনে উদগ্রীব করেছে। প্রথম মহাযুদ্ধের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটে নি।

১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পযর্ন্ত একটানা যুদ্ধের পটভূমিকায় বিশ্বে শান্তি স্থাপনের প্রয়াসে ১৯১৯ সালের প্রথম দিকে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ৩২ টি দেশের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের প্যারিস নগরীতে মিলিত হয়ে প্যারিস শান্তিচুক্তি সম্পাদন করে। এই চুক্তিতে আরো কয়েকটি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। যেমন-ভার্সাই চুক্তি, সেন্ট জার্মেইনের চুক্তি, ট্রিয়াননের চুক্তি, সেভার্সের চুক্তি, সংখ্যালঘু চুক্তি প্রভৃতি।

সেভার্সের সন্ধির প্রেক্ষাপট

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জার্মানির আগ্রাসী ভূমিকায় তৎকালীন শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো শঙ্কিত হয়ে উঠে। ফ্রান্স ও ব্রিটেন এই যুদ্ধে জার্মানির বিপক্ষে অংশগ্রহণ করে। অন্যদিকে তুরস্ক যুদ্ধের গতির দিকে নজর দিয়ে জার্মানির জয়লাভের ধারণার বশবর্তী হয়ে জার্মানির পক্ষ অবলম্বন করে। কিন্তু শেষ পযর্ন্ত যুদ্ধে জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন মিত্রশক্তির নিকটি পরাজয় বরণ করে। ফলে প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে ভার্সাই-এর সন্ধি দ্বারা মিত্রশক্তি জার্মানিকে পঙ্গু করে দেওয়ার প্রয়াস গ্রহণ করে বিভিন্ন অবমাননাকর শর্ত তার উপর চাপিয়ে দেয়।

জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রশক্তির এই সাফল্য স্বাভাবিকভাবেই জার্মানির সমর্থন লাভ ও পরাজিত তুরস্কের বিরুদ্ধে একটি কার্যকরী পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করে। ফলে জার্মানির মতো তুরস্ককে শায়েস্তা করার জন্য মিত্রশক্তিবর্গের আকাঙ্ক্ষা তুরস্ক ও মিত্রশক্তির মধ্যে সেভার্সের চুক্তির প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

সেভার্সের চুক্তি স্বাক্ষর‌

পনেরো শতক থেকে উনিশ শতকের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য এমনকি ইউরোপের একটি শক্তি হিসেবে তুরস্ক প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় তুরস্কের ক্ষমতা ও শক্তি খর্ব করার জন্য ‘মিত্রশক্তিবর্গ’ ১৯২০ সালের ১০ আগস্ট তুরস্কের সাথে ‘সেভার্সের চুক্তি (Treaty of Sevres)’ সম্পাদন বা স্বাক্ষর করে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে বিশ্ব শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মিত্রশক্তি ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সেভার্সের চুক্তি (Treaty of Sevres) একটি আলোচিত ও বহুল সমালোচিত ঘটনা। এই চুক্তির মাধ্যমে পাশ্চাত্য শক্তিবর্গ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্যবাদী মনোবৃত্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.