শ্বেত বিপ্লব বলতে কি বুঝ?

4562 copy

আধুনিক ইরানের ইতিহাসে দ্বিতীয় মোহাম্মদ রেজাশাহ এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। সমাজের সর্বস্তরে সংস্কার সাধন করে তিনি ইরানকে একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস পান। তার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে আধুনিক ইউরোপীয় ধাঁচে গড়ে তোলা। এই পরিপ্রেক্ষিতে তার প্রবর্তিত ‘শ্বেত বিপ্লব’ ইরানের মধ্যযুগীয় ভূমি ব্যবস্থার পরিবর্তন সাধন করে এক নবজাগরণের সূচনা করে। এই সংস্কারের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা লাভ করাও তার উদ্দেশ্য ছিল।

শ্বেত বিপ্লবের সংজ্ঞা

১৯৪১ সালে রেজাশাহ পাহলভী দেশ ত্যাগ করার পর তদীয় পুত্র দ্বিতীয় মোহাম্মদ রেজাশাহ ইরানের সিংহাসনে আরোহণ করে দেশের উন্নয়নকার্য্য পরিচলনা এবং আইন-শৃঙ্খলার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেন। তিনি তার পিতার আমলে আধুনিকীকরণের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধ পরিকর ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি কতিপয় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে তিনি ছয় দফা সংবলিত একটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিনা রক্তপাতে ভূমি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয় বলে একে ‘শ্বেত বিপ্লব’ বলা হয়।এই রক্তপাতহীন বিপ্লবের জন্য তিনি ইরানের ইতিহাসে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি লিবিয়ার সামরিক শাসক মুয়াম্মের গাদ্দাফীর পথিকৃৎ ছিলেন। শাহের এই ছয় দফার প্রতি ইরানি জনগণের সমর্থন আছে কিনা-এই মর্মে একটি গণভোটের ব্যবস্থা করা হয়। গণভোটে ইরানি জনগণ এই সংস্কারের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন জ্ঞাপন করে। এতে মোহাম্মদ রেজাশাহ দ্বিগুণ উৎসাহিত হয়ে আরো ছয় দফা সংযোজন করে মোট ১২ দফার ভিত্তিতে তার ঐতিহাসিক শ্বেত বিপ্লবের কার্য্যক্রম শুরু করেন।

ইরানকে আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে মোহাম্মদ রেজাশাহ যে উদ্যম ও কর্মতৎপরতার পরিচয় দেন তা সমসাময়িক অন্য কোনো মুসলিম নরপতি দিতে পারেন নি। তিনি তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বহুলাংশে সফল হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.