রেজা শাহ পাহলভী কে ছিলেন?

রেজা শাহ পাহলভী

আধুনিক ইরানের জনক ছিলেন রেজা শাহ পাহলভী। কাযার বংশের বিভিন্ন কুসংস্কার ও স্থবিরতার বেড়াজাল ছিন্ন করে রেজাশাহ ইরানকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন। প্রাচীনপন্থি যুগে ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি আধুনিক ও প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। তার আমলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি শান্তিপূর্ণ ছিল। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তিনি রাশিয়া তুরস্ক, আফগানিস্তান, ইরাক প্রভৃতি দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন।

রেজাশাহ পাহলভীর পরিচয়

রেজাশাহ ইরানের বিখ্যাত পাহলভী বংশে ১৮৭৮ সালের ১৬ মার্চ কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী মাজেদ্রান প্রদেশের আসছ হাট দুর্গে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মেজর আব্বাস আলী খান এবং পিতামহ ক্যাপ্টেন মুরাদ আলী খান দু’জনেই পারসিক সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য ছিলেন। জন্মের মাত্র ৪০ দিনের মাথায় রেজাশাহ পিতৃহারা হন। ১৪ বছর বয়সে তিনি কসাক ব্রিগেডে যোদান করেন। পারস্যের সেনাবাহিনীকে রুশ প্রভাব থেকে মুক্ত করার জন্য রেজাশাহ ১৯২০ সালের আগস্ট মাসে কসাক ব্রিগেডের সেনাপতির পদ গ্রহণ করেন।

রেজাশাহের ক্ষমতাগ্রহণ

১৯২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রেজাশাহ পাহলভী তেহরানে একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে যুদ্ধমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নানা উপায়ে নিজের ক্ষমতা সুদৃঢ় করার পর ১৯২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি প্রথানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯২৪ সালের ২১ অক্টোবর কাযার বংশের সর্বশেষ শাসক আহম্মদ শাহকে পদচ্যুত করেন। ১২ ডিসেম্বর মজলিশ রেজা খানকে ‘শাহ’ উপাধি দান করে। ১৯২৬ সালের ২৫ এপ্রিল রেজাশাহ তার রাজ্যাভিষেক উদযাপন করেন।

রেজাশাহ নিঃসন্দেহে বিশ শতকের ইরানের একজন শ্রেষ্ঠ শাসক ও সংস্কারক ছিলেন। আধুনিক ইরানের তিনিই স্রষ্টা। তিনি ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। তার প্রচেষ্টায় অনেক ঘৃণিত প্রথার অবসান ঘটে এবং ইরান বিদেশি প্রভাবমুক্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.