রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র কি?

ষড়যন্ত

১৯৪৮ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর থেকে পাকিস্তানের সমাজ ও রাষ্ট্রে সশস্ত্র বাহিনী একটি পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ সময় কোনো কোনো সাময়িক অফিসারের মনে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা জন্ম নেয়।

এ পরিস্থিতিতে ১৯৫১ সালের ১৭ জানুয়ারি জেনারেল ডেভিড গ্রেসির নিকট থেকে পাকিস্তানের প্রধান সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল আইয়ুব খান। এর অল্প পরেই সেনাবাহিনীতে সরকার উৎখাতের এক ষড়যন্ত্র আবিষ্কৃত হয় যা ‘রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র’ (Rawalpindi Conspiracy) নামে পরিচিত। এটাই ছিল পাকিস্তানের নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের প্রথম প্রচেষ্টা।

রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্রঃ

রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের সরকারের বিরুদ্ধে এক সামরিক অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা। তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার মেজর জেনারেল আকবর খান ছিলেন এর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাকারী। এ পরিকল্পনায় তিনি কিছু সামরিক অফিসার ও বামপন্থি রাজনীতিবিদের সহায়তাও পেয়েছিলেন।

১৯৫১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আকবর খান রাওয়ালপিন্ডিতে এ উদ্দেশ্যে এক বৈঠকের আয়োজন করেন-যেখানে ফয়েজ, সৈয়দ সাজ্জাদ, জহির, মুহাম্মদ হুসাইন আতা প্রমুখ অসামরিক ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন আকবর খান, লে. কর্নেল সিদ্দিক রেজা এবং মেজর মুহাম্মদ ইউসুফ সেথি (Sethi)। ক্যু পরিকল্পনা অনুযায়ী গভর্নর জেনারেল এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়ই গ্রেফতার হবে তবে গ্রেফতারের পূর্বে গভর্নর জেনারেল প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারকে বরখাস্ত করবে।

সরকার বাতিলের পরপরই আকবর খান নতুন সরকার গঠন করবে এবং দেশে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করবে। এ সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণের অনুমোদন দেবে এবং এ পার্টি সরকারকে সমর্থন ও স্বাগত জানাবে। অন্যদিকে ফয়েজের অধীনে একটি দৈনিক এ সরকারের পক্ষে জনমত গঠন করতে সচেষ্ট হবে। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে কেউ একজন এ গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন, যা আলী নামক একজন পুলিশ অফিসার আজি পিকে এ ষড়যন্ত্র পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন।

যার মাধ্যমে এ ক্যু সম্পর্কে গভর্নর জেনারেল ও প্রধানমন্ত্রী উভয়ই জানতে পারেন। ফলাফলস্বরূপ এ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং আকবর খান, বেগম নাসিম, ফয়েজ ও জহির গ্রেফতার হন।

রাওয়ালপিন্ডি ষড়যন্ত্রের অভিযুক্তদের বিচারের জন্য হায়দারাবাদ জেলের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল স্থাপন করা হয়। ট্রাইবুনাল ১৯৫১ সালের ১৫ জুন এ মামলার বিচারকার্য্য শুরু করেন। ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা না হলেও অভিযুক্তরা দাবি করেন যে, আট ঘন্টা তীব্র বিতর্কের মধ্য দিয়ে কোনোরূপ ঐকমত্য ব্যতীত সে বৈঠক শেষ হয়।

আর পাকিস্তানি আইন অনুযায়ী কোনো পরিকল্পনার ঐকমত্যের ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন হলেই কেবল তাকে ষড়যন্ত্র বলা যাবে, অন্যথায় নয়। এক মাস বিচারকার্য্য চলার পর অবশেষে ট্রাইবুনাল তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.