ম্যান্ডেট ব্যবস্থা বলতে কি বুঝ?

ম্যান্ডেট ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে ম্যান্ডেট ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভের পর মিত্রশক্তি তাদের প্রভাব বজায় রাখার জন্য আরব দেশগুলোর উপর একধরনের শাসনব্যবস্থা কায়েম করে যা ম্যান্ডেটরি শাসনব্যবস্থা নামে পরিচিত। মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রারিস শান্তি সম্মেলনেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ম্যান্ডেট শাসনব্যবস্থা কায়েমের বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও পরবর্তীতে ১৯২০ সালের স্যানরোমা সম্মেলনে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহৎশক্তিবর্গ আরব দেশগুলোতে চূড়ান্তভাবে তাদের ম্যান্ডেট শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে।

ম্যান্ডেট ব্যবস্থা

ম্যান্ডেট ব্যবস্থা বলতে জাতিপুঞ্জের মধ্যস্থতায় সুপ্রিম আইনের আদেশকে বুঝায়। ম্যান্ডেট মূলত বৈধ হুমুকনামার শাসন। এটিও ঔপনিবেশিক কায়দার শাসন। ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থার বদলে কেবল নাম পরিবর্তন করে ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন পরিচালিত হয়। ম্যান্ডেটরি শাসনব্যবস্থাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-পশ্চিম এশিয়ায় ম্যান্ডেটরি শাসন ও আফ্রিকায় ম্যান্ডেটরি শাসন। মূলত ১৯২০ সালে স্যানরেমো সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্রান্সকে সিরিয়া ও লেবাননের ম্যান্ডেট প্রদান করা হয়। এছাড়া ব্রিটেনকে ইরাক, ট্রান্সজর্ডান ও ফিলিস্তিনের ম্যান্ডেট প্রদান করা হয়। জাতিপুঞ্জের সনদে এই অঞ্চলগুলোকে প্রথম শ্রেণীর ম্যান্ডট হিসেবে অভিহিত করা হয়। এতে বলা হয় যে, অঞ্চলগুলোর উপর ম্যান্ডেটরি কর্তৃপক্ষের সামরিক অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ম্যান্ডেটরি কর্তৃপক্ষ অঞ্চলসমূহের স্বাধীনতা অর্জনে সহযোগিতার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই ম্যান্ডেট ব্যবস্থা ছিল বৃহৎশক্তিগুলোর আধিপত্য বিস্তারের একটি নতুন মাধ্যম।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতিহাসে ম্যান্ডেটরি শাসন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভের পর মিত্রশক্তিবর্গ বিশ্বে তাদের প্রভাব-পতিপত্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাম্রাজ্যবাদী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। তারই বহিঃপ্রকাশ এই ম্যান্ডেটরি শাসনব্যবস্থা। মূলত ম্যান্ডেটরি শাসনব্যবস্থা হলো উপনিবেশবাদেরই বৈধ রূপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.