মীর সামান বলতে কি বোঝ?

মীর সামান

মুঘল আমলে সরবরাহ বিভাগের দায়িত্বে নিযুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মীর সামান বলা হত। ঐতিহাসিক যদুনাথ সরকারের মতে, এ পদটি সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে সৃষ্টি হয়েছিল। এ পদে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসী ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হত। মুঘল আমলে আফজাল খান, মীর ‍জুমলা, আকল খান, সাদউল্লাহ খান প্রমুখ মীর সামানের দায়িত্ব পালন করেন।

মীর সামান এর কার্যাবলীঃ

তিনি রাজ পরিবারের সকল প্রকার সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতেন। ভি.ডি মহাজন বলেন, “তিনি সম্রাটের সাথে ভ্রমণকালে এবং অভিযান কালে গমন করতেন। তিনি সম্রাটের ব্যক্তিগত ভৃত্যদের নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং প্রাত্যহিক খরচ, খাদ্য সংরক্ষণ, তাবু ইত্যাদিরও দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।” তিনি অন্যান্য মন্ত্রীবর্গ এবং সম্রাটের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করতেন। সৈনিকের খাদ্য, পোশাক, অস্ত্রাদি, অশ্ব, হাতি ভারবাহী পশু ইত্যাদির সংগ্রহ ও সরবরাহের দায়িত্ব ছিল তার উপর। তিনি নওরোজ শাহী পরিবার সদস্যদের বিবাহ ইত্যাদির আয়োজন ও খরচ, বিভিন্ন উৎসবে প্রদত্ত খিলাত সংগ্রহ ও সরবরাহ করতেন। কেন্দ্রের এবং সমগ্র রাজ্যের কলকারখানা গুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা ও তদারক তাকেই করতে হত।

এছাড়াও মীর সামান রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি সরকারি বাগান, দোকান, গৃহ সমূহ ইত্যাদি তদারক করতেন। তার বিশাল দপ্তরে হাবিলদার, নাজির প্রভৃতি বেশ কিছু সংখ্যক পদস্থ কর্মচারী বিদ্যমান ছিলেন। যেমন- মুশরিক নামক অফিসারকে হিসেবের জন্য প্রতি শাখায় তিনি নিয়োগ করতেন। তার অধীনস্থ দারোগা এবং তহসিলদারগণ কারখানায় কাজ তদারক করতেন। প্রধান মন্ত্রীর ন্যায় তিনি প্রত্যহ রাজদরবারে হাজির থাকতেন এবং সম্রাটের আদেশ গ্রহণ করতেন।

মীরসামানের দায়িত্ব ও কর্তব্য ছিল ব্যাপক। প্রকৃত পক্ষে তিনি প্রধানমন্ত্রী, দিওয়ান ও মীর বখশীর সাথে সমন্বয় স্থাপনকারী হিসেবে কাজ করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.