মীর বখশী বলতে কি বুঝ?

মীর বখশী

মুঘল সামরিক বাহিনীর প্রধান কর্মকর্তাকে মীর বখশী বলা হতো। মীর বখশী মূলত একজন সামরিক কর্মকর্তা হলেও তাকে বেসামরিক দায়-দায়িত্বও পালন করতে হতো। শিকার অভিযান, আমোদ-প্রমোদ, ভ্রমণ, গোপন পরামর্শ, জরুরি সভার সময় তিনি বাদশার একান্ত কাছে থাকতেন।

মীর বখশীর দায়িত্ব ও কার্যাবলীঃ

মীর বখশী যে সমস্ত দায়িত্ব ও কার্যাবলী পালন করতেন সেগুলো তা হলো-

১. মুঘল আমলে মীর বখশী বাদশা বা শাহজাদার অনুপস্থিতিতে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতেন।

২. মীর বখশী সম্রাটের ডান পাশে দণ্ডায়মান থেকে নিজের দফতরের কাগজপত্র পেশ, সকল চাকুরী প্রার্থীকে রাজদরবারে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন, প্রদেশ থেকে আগত কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদেশী রাজ দূতের সম্রাটের সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা প্রভৃতি কাজ তিনি নিষ্ঠার সাথে সম্পন্ন করতেন।

৩. প্রত্যেক স্তরের মনসবের নিয়োগের হুকুমপত্র এবং রাষ্ট্রের সকল প্রকার পদে নিয়োগের হুকুম নামা মীর বখশী কার্য্যকরী করতেন। সকল প্রকার ফরমানের দীওয়ানের সীল মোহরের সাথে তার সীল মোহর থাকত।

৪. মীর বখশী প্রহরী ও মনসবদারদের পূর্ণ তালিকা রাখতেন এবং সম্রাটের নিকট উহা পেশ করতেন। রক্ষীদের কাজের মূল্যায়ন করে পুরুস্কারের জন্য তিনি সম্রাটের নিকট হাজির করতেন।

৫. যুদ্ধ ক্ষেত্রেও মীর বখশী ও তার সহকর্মী বখশীদের নানা দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হত। যুদ্ধ চলাকালীন অবস্থায় সৈন্যদের মধ্যে ঋণদান, অগ্রিম অর্থ প্রদান ও বেতন প্রদান সংশ্লিষ্ট বখশীর প্রধান কর্তব্য ছিল। প্রধান বখশী ও সহকারী বখশীগণ অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের মত যুদ্ধ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহণ করতেন।

৬. মীর বখশীকে বিভিন্ন সরকারি কাগজ পত্র, নথিপত্র প্রদান করতে হত। যেমন-সেনাবাহিনী, উচ্চপদস্থ রাজকর্মকর্তা ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা, রাজধানী ও প্রদেশে নিযুক্ত মনসবদারদের তালিকা, বেতন বিল সংক্রান্ত তালিকা তার দফতরে সংরক্ষণ করতে হতো।

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, দায়িত্বে ও কর্তব্যের দিকে থেকে মীর বখশীর পদ ছিল ব্যাপকতম, ক্ষমতার দিক দিয়ে ছিল গভীরতর এবং রাজ সম্পর্কের দিক দিয়ে ছিল নিকটতম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.