মধ্যপ্রাচ্য কাকে বলে?

মধ্যপ্রাচ্য

বর্তমান পৃথিবীর ইতিহাস ও মানচিত্রে ‘মধ্যপ্রাচ্য’ নামটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পরে পৃথিবীর মানচিত্রে ও বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমারেখায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। আর এই পরিবর্তনের ধারায় ‘মধ্যপ্রাচ্য’ নামকরণ এবং এর ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন সূচিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংজ্ঞা

প্রচলিত অনেক বিষয়ের মতো মধ্যপ্রাচ্যের সংজ্ঞা নিয়েও বিভিন্ন মতভেদ দৃষ্টি হয়। প্রথম মহাযুদ্ধের পর হতে ‘মধ্যপ্রাচ্য’ নামটি কিছুটা ব্যবহৃত হলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হতেই তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এর পূর্বে এলাকাটি ‘নিকট প্রাচ্য’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিল। বলকান উপদ্বীপ, মিসর এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকাকে বলা হতো ‘নিকট প্রাচ্য’। আর ইরান, ইরাক, আরব উপদ্বীপ এবং আফগানিস্তানকে মধ্যপ্রাচ্য বলে মনে করা হতো। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। মিত্রশক্তি উত্তর আফ্রিকা হতে ইরান পযর্ন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সামরিক প্রয়োজনে এই এলাকাকে একই সামরিক প্রশাসনের অধীনে আনা হয় এবং সমস্ত এলাকাকে ‘মধ্যপ্রাচ্য’ নামে অভিহিত করা হয়। এর পর হতে এই নামেই এলাকাটি পরিচিত হয়ে আসছে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে পশ্চিমে মরক্কো হতে পূর্বে ইরাক পর্য্ন্ত আরব লীগের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্র, তুরস্ক, ইসরাইল ও ইরান-এসকল অঞ্চলকেই সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য হিসেবে অভিহিত করা হয়।

আধুনিক বিশ্বের মানচিত্রে মধ্যপ্রাচ্য এমন একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে রয়েছে যার ভূ-রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক অর্থ যেমন অর্থপূর্ণ তেমনি এ অঞ্চলে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের সমাহার একটি পৃথক ও স্বতস্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিকশিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.