উস-শুরা
ইতিহাস

মজলিস-উস-শুরা কি?

ইসলামি প্রশাসন ব্যবস্থায় মজলিস-উস-শুরার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতপক্ষে প্রাক-ইসলামি যুগ হতে শুরু করে বর্তমান কালেও মজলিস-উস-শুরা বলবৎ রয়েছে।

মজলিস-উস-শুরা

“শুরা” আরবি শব্দ। এর অভিধানিক অর্থ পরামর্শ। আর মজলিশ অর্থ হচ্ছে সভা। সুতরাং দেখা যাচ্ছে মজলিশ-উস-শুরা অর্থ পরামর্শ সভা। প্রাক-ইসলামি যুগের শেখগণ গোত্রের গণ্যমান্য সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে উদ্ভূত সমস্যাদি সমাধান করতেন। প্রাক-ইসলামি যুগে আরব গোত্রের সেই পরামর্শ সভাকে “বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদ” বলা হতো এবং ইসলামি যুগে অনুরূপ পরামর্শ সভাকে মজলিশ-উস-শুরা বলা হতো। মহানবী (সাঃ) প্রাক- ইসলামি নীতি ও কুরআনের নির্দেশ অনুসরণ করে সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রীয় কার্যাদি সম্পাদন করতেন। খোলাফায়ে রাশেদিনের সময়েও মজলিশ-উস-শুরা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলবৎ ছিল।

খলিফা আবু বকর (রাঃ) এর আমলে শুরা

খলিফা আবু বকর (রাঃ) মহানবী (সাঃ) এর আদর্শের অনুসারী ছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় সকল কাজে মহানবীর আদর্শ ধরে চলতেন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে শুরার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। খলিফা নির্বাচিত হয়েই তিনি উদ্বোধনী ভাষণে বলেন, “আমি তোমাদের চেয়ে বিখ্যাত নই, আমি তোমাদের পরামর্শ গ্রহণ করব।”

হযরত ওমর (রাঃ) এর আমলে শুরা

হযরত ওমর (রাঃ)-এর আমলে মজলিশ-উস-শুরা গুরুত্বপূর্ণ রূপ পরিগ্রহ করে। তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণা করেন যে, আলোচনা ছাড়া কোন সরকারি কার্য্য চলতে পারে না। তার শাসনামলে দু’বার সাধারণ সভা আহবানের বিবরণ পাওয়া যায়।

ওসমান (রাঃ) এর আমলে শুরা

খলিফা হযরত ওসমানের (রাঃ) শাসন কালের শেষ পর্যায়ে শুরার গুরুত্ব কমে যায়। তার শাসনামলে দলগত রাজনীতি প্রভাব বিস্তার করে। এ ছাড়া খলিফা ওসমান (রাঃ) এর স্বজন প্রীতির জন্য ওমর (রাঃ) এর আমলে যে পরামর্শ সভা ছিল তা বিনষ্ট হয়ে যায়।

হযরত আলী (রাঃ) এর আমলে শুরা

হযরত আলী (রাঃ) এর আমলে দু’টি কারণে পরামর্শ সভার ভূমিকা সীমিত হয়ে যায়।

প্রথমত, হযরত আলী (রাঃ) এর শাসন কাল পযর্ন্ত অধিকাংশ সাহাবীরই মৃত্যুবরণ।

দ্বিতীয়ত, প্রথম থেকেই হযরত আলীর (রাঃ) এর আমলের গৃহযুদ্ধ।

উমাইয়া যুগে শুরা

পরবর্তী কালে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়াও পরামর্শ সভার প্রতি গুরুত্ব দেননি। উমাইয়া আমলে একমাত্র ২য় ওমর পরামর্শ সভার প্রতি সম্মান দেখান।

আব্বাসীয় আমলে শুরা

আব্বাসীয় আমলে খলিফা আল-মামুন ছিলেন প্রথম খলিফা যিনি সর্বদলের ও সর্ব জাতির প্রতিনিধি সমন্বয়ে একটি জাতীয় রাষ্ট্রীয় পরামর্শ সভা গঠন করেন। কিন্তু পরবর্তী শাসনামলে শুরার বদলে রাজকীয় পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়।

মজলিশ-উস-শুরার গুরুত্ব

ইসলামি প্রশাসনে মজলিস-উস-শুরার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণ ও শাসন সংক্রান্ত বিষয় যেমন- রাষ্ট্রের পদস্থ কর্মচারী নিয়োগ, বেতন ভাতা নির্ধারণ, যুদ্ধপরিচালনা, বৈদেশিক নীতি নির্ধারণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে খলিফা শুরার পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

মহানবী (সাঃ) ও খোলাফায়ে রাশেদীনের সময়ে গণতন্ত্র চরম বিকাশ লাভ করে। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় সমস্যাদির ব্যাপারে জনসাধারণ তাদের ব্যক্তিগত পরামর্শ দিতে পারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *