বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়নশীল দেশ।বৈদেশিক সাহায্য দেশের সার্বিক উন্নয়নে কতোটুকু ভূমিকা রাখে?

Thumbnail Image 2

বৈদেশিক সাহায্য হলো যখন একটি দেশ বা সংস্থা অন্য আরেকটি  দেশকে, দেশটির  আকস্মিক বা স্বাভাবিক প্রয়োজনে, প্রচলিত ঋনের বাইরে সহজ শর্তে বা শর্তহীন যে ঋণ বা অনুদান দিয়ে থাকে তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে।

বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়ন।  

প্রতিটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ‘বৈদেশিক সাহায্য’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৈদেশিক সাহায্য’’কে  প্রতিটি দেশের জন্যই আশীর্বাদ মনে করা হয় । বৈদেশিক সাহায্য যেমন উন্নয়নশীল দেশের জন্য জরুরী ঠিক তেমনি উন্নত বা অনুন্নত দেশের জন্যও জরুরী তবে বৈদেশিক সাহায্য কি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আদৌ আশীর্বাদ বয়ে আনে? আজকের আর্টিকেলটিতে আমরা সে বিষয় সম্পর্কেই জানবো। 

এখন প্রশ্ন আসতে পারে বৈদেশিক সাহায্য কী কী বা কয় প্রকার?

বৈদেশিক সাহায্য বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন :- অর্থ সাহায্য, পণ্য সাহায্য, প্রকল্প সাহায্য, সামরিক সাহায্য, কারিগরি সাহায্য, বেসরকারি বিনিয়োগ ইত্যাদি । তাই বৈদেশিক সাহায্যকে ৩টি গ্রুপের আওতায় আনা যায় যেমন:- 

  • ১. সামরিক সাহায্য ( Military aid) 
  • ২. মানবিক সাহায্য ( Humanitarian aid ) 
  • ৩. আর্থিক বা উন্নয়ন সাহায্য ( Economic / development aid ) 

আর্থিক ও উন্নয়ন সাহায্যের লক্ষ্য থাকে দীর্ঘস্থায়ী  আর্থিক উন্নয়ন ও জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এই সাহায্যের আওতায় থাকে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন :- বড় বড় প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি। 

অপরদিকে মানবিক সাহায্যের আওতায় রয়েছে – দুর্যোগ কবলিত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য বা ত্রান সহায়তা।

‘উন্নয়ন সহায়তার’ ফলে, একটি  উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করে, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সংকটাপন্ন সময় ‘মানবিক সাহায্য’ মানুষকে দ্রুত খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা দিয়ে জীবন বাঁচাতে পারে। 

এতো সব সুফলের মাঝেও বৈদেশিক সাহায্যের কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি বা খারাপ দিকও রয়েছে যেমন – দুর্নীতিগ্রস্ত  বা অনেক  উন্নয়নশীল দেশে বৈদেশিক সাহায্যের সু-ব্যবহার অপেক্ষা অপব্যবহারই বেশি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের মূল উদ্দ্যেশই ব্যহত হয়।

 বৈদেশিক সাহায্যের ঋণের ক্ষেত্রে যে সুদ ধার্য করা হয়, সময়মতো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সুদের পরিমাণ বাড়তে থাকে তারপর, দেখা যায় সেই ঋণের বোঝা বইতে বইতেই ঋণ গ্রহিতা বা উন্নয়নশীল দেশটির নাজেহাল অবস্থা হয়ে যায়। 

আবার, বৈদেশিক সাহায্যে ‘ দাতা দেশ বা সংস্থা’, গ্রহিতা দেশের জন্য দুর্বল বা অকার্যকর কিছু পরিকল্পনা নির্ধারণ করে দেয়, যা উন্নয়নশীল দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো সুফল বয়ে আনে না।

 এছাড়াও, ‘বৈদেশিক ঋণ’’ গ্রহিতা দেশকে অনেক সময় স্বনির্ভর হওয়ার পরিবর্তে বৈদেশিক সাহায্য বা ঋণের প্রতি নির্ভরশীল করে ফেলে। মানবিক সাহায্যেও অসম বন্টণ, দূর্নীতি, দূর্যোগ স্থলে যথাযথ সময়ে না পৌঁছাতে পারা ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়। 

পরিশেষে বলা যায়, বৈদেশিক সাহায্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল কোনো দেশের উন্নয়নে তখনই ভূমিকা রাখবে যখন বৈদেশিক সাহায্য’ দেশটির উন্নয়নে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হবে, যথাযথ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে এবং যখন  টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।