বুরাইমি মরুভূমি
ইতিহাস

বুরাইমি মরুভূমি সম্পর্কে কি জান?

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত বুরাইমি মরূদ্যান। তৃতীয় দশকে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানে তেল আবিষ্কারের ফলে এই মরূদ্যানের নিম্নেও তেলের অস্তিত্ব সম্পর্কে আশাবাদ দেখা দেয়। ফলে এর মালিকানা নিয়ে সংঘাত আকার ধারণ করে।

বুরাইমি মরুভূমি সংকট

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এই মরূদ্যানের দাবিদার তিনটি দেশ সৌদিআরব, মাসকাত-ওমানের সালতানাত ও আবুধাবী। বিশ শতকের পঞ্চম দশকে যখন এই মরূদ্যানের মালিকানা নিয়ে বিরোধ উপস্থিত হয় তখন পযর্ন্ত মাসকাত-ওমানের সালতানাত এবং আবুধাবী ব্রিটিশের আশ্রিত রাজ্য ছিল। তাদের স্বার্থ বিশেষত বৈদেশিক নীতি ব্রিটেনই দেখাশুনা করতো। ফলে ব্রিটেনের সাথে সৌদিআরবের কলহ অনিবার্য্য হয়ে পড়ে। তৃতীয় দশকে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানে তেল আবিষ্কারের ফলে এই মরূদ্যানের নিম্নেও তেলের অবস্থিতি সম্বন্ধে আশাবাদ দেখা দেয়। ফলে এর মালিকানা নিয়ে সংঘাত তীব্রতর আকার ধারণ করে। ১৯৫২ সালে একটি ক্ষুদ্র সৌদি সৈন্যদল মরূদ্যানটির একটি অংশ দখল করলে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে থাকে। বাকি অংশে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত মাসকাত-ওমানের সৈন্যদল মোতায়েন করা হয়। একটি সাময়িক চুক্তির মাধ্যমে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। এতে স্থির হয় যে, কোনো পক্ষই একটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পযর্ন্ত সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না বা সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করবে না। মধ্যস্থতার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৯৫৪ সালের ৩০ জুলাই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি মোতাবেক ৫ সদস্যের একটি মধ্যস্থতাকারী পরিষদ গঠিত হয়। এতে একজন ব্রিটিশ, একজন সৌদি ও তিনজন রিনপেক্ষ দেশের সদস্য থাকবে বলে স্থির হয়। ১৯৫৫ সালের ২২ জানুয়ারি নাইসে পরিষদের প্রাথমিক বৈঠকের পর ঐ বৎসরের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখে জেনেভায় পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন বসে। কয়েকটি অধিবেশনের পরেই পরিষদে ব্রিটিশ প্রতিনিধি রিডার বুলার্ড পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পরিষদের প্রতিনিধি ইউসুফ ইয়াসিন একটি নিরপেক্ষ পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ না করে সৌদি স্বার্থের প্রতিভু হিসেবে কাজ করছেন। এর পর পরই পররাষ্ট্র দফতর অভিযোগ করে যে সৌদি আরব মরূদ্যানের লোকদের ব্যাপক উৎকোচ প্রদান করে বশীভূত করার প্রয়াস পাচ্ছে। আরও বলা হয় যে, বাদশাহ সউদ আবুধাবীর শাসকের ভ্রাতাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উৎকোচ হিসেবে দিয়েছেন যাতে তিনি এই মরূদ্যানে ইরাক পেট্রোলিয়াম কোম্পানির তেল অনুসন্ধান কার্যে বাধার সৃষ্টি করে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আরামকোর জন্য ক্ষেত্র উন্মুক্ত রাখেন। ১৯৫৫ সালের অক্টোবর মাসের ২৬ তারিখে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ওমানি সৈন্যদল সৌদি সৈন্যদলকে বুরাইমি হতে বিতাড়িত করেছে। এছাড়া সৌদি আরব মাসকাত-ওমানের সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ওমানের ইমামকে সাহায্য করায় সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠে এবং ১৯৫৬ সালে সুয়েজ সংকটের সময় এই তিক্ততা চরমে পৌছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়।

বুরাইমি মরূদ্যান সংকট মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বিশ শতকের পঞ্চম দশকে মরূদ্যানের মালিকানা নিয়ে এ বিরোধ উপস্থিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *