বাদশাহ ফয়সালের পরিচয়

বাদশাহ ফয়সালের

১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে আব্দুল আজিজ ইবনে সউদের সৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠপুত্র সউদ ইবনে আব্দুল আজিজ সিংহাসনে আরোহণ করলেও বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেন নি। ফলে ১৯৬৪ সালে তার কনিষ্ঠ ভাই তথা ইবনে সউদের কনিষ্ঠ পুত্র ‍যুবরাজ ফয়সাল সৌদি আরবের বাদশাহ হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন।

বাদশাহ ফয়সালের প্রাথমিক পরিচয়

বাদশাহ ফয়সাল ১৯০৬ সালের ১৪ এপ্রিল সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ। তিনি ছিলেন আধনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা। তার মাতার নাম ছিল তারফা বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ আল শেখ। ফয়সাল মাত্র ছয় বছর বয়সে তার মাকে হারান। তখন তিনি নিতান্তই শিশু ছিলেন।

বাদশাহ ফয়সালের শিক্ষা ও কর্মজীবন

ফয়সাল তার মায়ের মৃত্যুর পর পিতামহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফের কাছে লালিত পালিত হন। লতিফ ছিলেন বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে সউদের প্রধান ধর্মীয় শিক্ষক ও উপদেষ্টা। তিনি ফয়সালকে কুরআন ও ইসলামের মূলনীতিগুলো শিক্ষা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বিভিন্ন যুদ্ধে লিপ্ত থাকার কারণে শিক্ষা গ্রহণ ত্যাগ করেছিলেন। ১৯২৫ সালে বাদশাহ ফয়সাল সৌদি আরবের হেজাজ দখলের পর সেনাবাহিনীতে বিশ্বস্ততা অর্জন করেছিলেন। তিনি অল্প বয়স হতেই স্থানীয় শাসক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

বাদশাহ ফয়সালের রাজনৈতিক জীবন

বাদশাহ ফয়সাল একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ ছিলেন। অল্প বয়স হতেই তিনি রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন। ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার আব্দুল আজিজকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি না গিয়ে তার পুত্রকে পাঠান। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আব্দুল আজিজ ১৯৩০ সালে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি বৈদেশিক নীতিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন। ফয়সাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্র যেমন-১৯৩২ সালে পোল্যান্ড এবং ১৯৫৩ সালে রাশিয়া সফর করেন।

আব্দুল আজিজ ইবনে সউদ যে আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা করেন ফয়সাল তাকে আরো সুসজ্জিত করেন। তিনি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। বাদশাহ ফয়সাল ১৯৭৫ সালের ২৫ মার্চ ৬৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। মুসলমানদের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তার অবদান অপরিসীম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.