বাদশাহ জহির শাহ কে ছিলেন?

বাদশাহ জহির শাহ

বাদশাহ জরিহ শাহের রাজত্বকাল আফগান্তিনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার রাজত্বকালে আফগানিস্তানে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। তিনি আফগানিস্তানকে একটি প্রগতিশীল আধুনিক রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস পান।

বাদশাহ জহিরের পরিচয়

১৯৩৩ সালে আততায়ীর হাতে নাদির শাহ নিহত হলে তার উনিশ বছরের পুত্র জহির শাহ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি ফ্রান্স শিক্ষালাভ করে ১৯৩০ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু রাজকার্যে অনভিজ্ঞতার জন্য তিনি তার চাচা প্রধানমন্ত্রী সরদার হাশিম খানের অধীন ছিলেন। মূলত হাশিম খান ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পযর্ন্ত আফগানিস্তানের একচ্ছত্র শাসক ছিলেন। বাদশাহ জহির খুবই দুর্বল, ক্ষমতাহীন, অযোগ্য শাসক ছিলেন এবং এ কারণে তিনি শাসনভার তার নিকটাত্মীয়দের উপর ন্যস্ত করেন। তার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন যুবরাজ মুহম্মদ দাউদ। দাউদ জহির শাহের চাচাত ভাই ও শ্যালক ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পযর্ন্ত আফগানিস্তানের শাসনকার্য্য পরিচালনা করেন। ১৯৩৩ সাল থেকে ১৯৭৩ সাল পযর্ন্ত বাদশাহ জহির শাহ আফগানিস্তানের সিংহাসনে উপবেশন করেন। তার এ রাজত্বকালীন সময়ে আফগানিস্তানে শিল্পায়ন, আধুনিকীকরণ, ইউরোপীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োগ, যোগাযোগ, টেলিগ্রাফ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে। এ সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জহির শাহের রাজত্বকালকে গৌরবান্বিত করে।

১৯৭৩ সালে বাদশাহ জহির শাহের পতন হয়। তার পতনের ফলে দোস্ত মুহম্মদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের পরিসমাপ্তি ঘটে। তার উত্তরসূরি মুহম্মদজাই গোত্রের হলেও তিনি রাজতন্ত্রের পরিবর্তে আফগানিস্তানে একটি প্রজাতন্ত্র কায়েম করেন। যদিও তা রুশ প্রভাবান্বিত কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র এবং সোভিয়েত সাময়িক হস্তক্ষেপে নির্মূল হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.