নকস-ডি-আর্চর কনশেসন কি?

নকস-ডি-আর্চর কনশেসন কি

মধ্যযুগীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় তেল ছিল ইরানের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। পশ্চিমা দেশসমূহে তেলের চাহিদা বেড়ে গেলে তেল উৎপাদনকারী দেশে তেলের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। ফলে শুরু হয় ইরানে ব্যাপক অনুসন্ধান, জরিপ ও উত্তোলনের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার।

নকস-ডি-আর্চর কনশেসনঃ

পার্শিয়ান ব্যাংক মাইনিং কোম্পানি ১৮৮৯ থেকে ১৯০১ সাল পযর্ন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যর্থ হলে রয়টারের একজন সহকারী এডওয়ার্ড কোর্টে ফরাসি ভূতাত্ত্বিক ডি. মরগানের জরিপ রিপোর্ট পড়ে আর্মেনীয় বংশোদ্ভূত জেনারেল কিতাবজী নামের একজন ইরানির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন। কিতাবজী প্যারিসে ব্রিটিশ মন্ত্রী স্যার হেনরি ড্রমন্ড-উলফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ব্রিটিশ পুঁজিপতিদের ইরানে তেল উত্তোলনের জন্য অর্থ বিনিয়োগের অনুরোধ করেন।

হেনরির প্রচেষ্টায় কিতাবজী ওডি মরগান উইলিয়াম নকস-ডি-আর্চি নামক একজন পুঁজিপতি ব্যবসায়ী শিল্পপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তারা অর্চিকে ইরানে তেল অনুসন্ধানের সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এরূপ পরিস্থিতিতে ডি-অর্চি তার সহকারী ম্যারিয়টকে তেহরানে প্রেরণ করেন। ১৯০১ সালে এবং কিতাবজী ওডি মরগানের সহায়তায় ১৯০১ সালের ২০ মে তারিখে তেল কনশেসন লাভ করেন। রাশিয়া আপত্তি জানালে আর্চি ম্যারিয়টকে ইরানের উত্তরাঞ্চলে রুশ প্রভাবাধীন পাঁচটি কনশেসন লাভ করে ভূতাত্ত্বিক জরিপ চালাতে শুরু করেন। জি. বি. রেনল্ডের নেতৃত্বে একটি জরিপদল কাজ শুরু করে এবং কাসরে শিরিনের সন্নিকটে চিরাহ সুরখ নামক স্থানে সর্বপ্রথম তেল কূপ খনন করেন।

অবশ্য পরবর্তীকালে ১৯১৩ সালে এ কূপটি তুরস্ক সরকারকে হস্তান্তর করা হয়। শর্তানুযায়ী সরকার দু বছরের মধ্যে একটি অনুসন্ধান কোম্পানি গঠন করার নির্দেশ দেন। শর্ত থাকে যে, ইরান সরকারকে মুনাফার ১৬% ভাগ রাজস্ব দিতে হবে। উক্ত শর্তানুযায়ী ডি-আর্চি ৮৪০,০০ বর্গ মাইল এলাকায় জরিপ কার্য্য পরিচালনা করেন।

ডি-আর্চির কর্মচারী প্রকৌশলী জি.বি. রেনল্ডের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে কাসর-ই-শিরিনে প্রথম তেলকূপ খনন করা হয়। এ কূপ থেকে ১৯০৩ সালে ৫০৭ মিটার গভীরে গ্যাস ও তেলের সন্ধান পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.