দুধ আর আনারস
বিজ্ঞান

দুধ আর আনারস একসঙ্গে খেলে কী হয়?

দুধ অতিশয় পুষ্টিকর একটি খাবার। দুধই একমাত্র তরলজাতীয় আদর্শ খাবার, যেখানে প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। যেকোনো বয়সের মানুষের প্রোটিন, ফ্যাট কিংবা কার্বোহাইড্রেটের এক অফুরন্ত খনি এই দুধ। অন্যদিকে ভিটামিন সি- এ ভরপুর আনারস ভিটামিন সি ছাড়াও ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাসের দারুণ এক উৎস। আনারস একদিকে এসিডিক খাবার আর দুধ হচ্ছে অ্যালকালাইন বা ক্ষার জাতীয় খাবার। দুধ যদি কাঁচা অবস্থায় পাস্তুরিত না হওয়ার আগেই আনারসের সাথে খাওয়া হয়, তবে শরীরে একধরনের বিক্রিয়া ঘটে। তবে এ বিক্রিয়া শুধু দুধ আর আনারসের ক্ষেত্রে নয়, অন্য যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। 

ছোটবেলা থেকে নিশ্চয় এ কথাটি শুনে আসছেন যে, দুধ আর আনারস একসাথে খাওয়া যাবে না! আচ্ছা বলুন তো, কেন দুধ আর আনারস একসাথে খাওয়া যাবে না? আদৌ কি একসাথে কখনো খেয়ে দেখেছেন, নাকি লোক মুখে প্রচলিত বলে বিশ্বাস করে নিয়েছেন? আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই ছোট থেকে জেনে আসছে যে দুধ আর আনারস কখনো একসাথে খাওয়া যাবে না, খেলেই বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হতে পারে। তবে শুনে বিশ্বাস করা অব্দিই সবাই সীমাবদ্ধ, এ ধারণাটি কি সঠিক নাকি কেবলই কুসংস্কার বা হলেও এর পেছনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখাটি ঠিক কী, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। তাহলে চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক দুধ আর আনারস একসাথে খেলে সত্যিই কী হয় তা বৈজ্ঞানিক আলোচনার মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক!

আমাদের মধ্যে অনেকেই আনারস কিংবা দুধ খেতে পারেন না। খেলেই এসিডিটি কিংবা বদ হজমের সমস্যা হয়ে পায়খানারও সমস্যা হয়। আর এটি মূলত আমাদের বিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা হওয়ার জন্যই হয়। দুধে অতি উচ্চ ফ্যাট থাকায় অনেকে দুধ খাওয়ার পর বমি করে দেয়, কিংবা হজমে সমস্যা তৈরি করে। দুধে ল্যাকটোজেন নামক উপাদান থাকায় অনেকের তা সহ্য হয় না। 

সুতরাং, আমরা সহজেই বুঝতে পারছি যে, এ সমস্যা কেবলমাত্র দুধ আর আনারস একসঙ্গে খেলেই হয় না। যদি হতোই তবে ‘ফ্রুট কাস্টার্ড’ এ দুধ আর আনারস যখন প্রায়ই একসঙ্গে খাওয়া হয় তখনই সবাই বুঝতে পারতো। আমাদের দেশে প্রচলিত এ ধারণাটি একদমই ভ্রান্ত যে কে যদি দুধ আর আনারস একসাথে খায়, তবে দেহে বিষক্রিয়া হয়ে ব্যক্তি মারা যায়। কিন্তু না, সর্বোচ্চ আপনার বমি হওয়া থেকে বদ হজমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে যা বিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটার ফলে হয়, কোনোভাবেই আপনার দেহে বিষক্রিয়া হবে না বা আপনি মারা যাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *