তালেবান
ইতিহাস

তালেবান কারা?

বিশ শতকের শেষ দিকে আফগানিস্তান তথা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত একটি নাম হলো তালেবান। আফগানিস্তানে সমাজতন্ত্রকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুজাহিদদের উস্কানি দেওয়ার যে নীতি গ্রহণ করে তার ফলেই তালেবানদের উত্থান ঘটেছিল।

কিন্তু ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদীয়মান ইসলামি শক্তির নির্মূল করার ঘোষণা দেয়। যা বিশ্বের ইতিহাসে ‘New World’ Order নামে পরিচিত। এদিকে অনেক বাধাবিপত্তি পার করে ১৯৯৬ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানে একটি সরকার গঠন করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই তালেবান সরকার গঠনে বাধা প্রদান করে এবং আফগানিস্তান আক্রমণ করে তালেবান সরকারের পতন ঘটিয়ে সেখানে তাদের তাবেদার সরকারকে ক্ষমতায় বসায়।

তালেবানদের পরিচয়

তালেবান আরবি শব্দ। তালেবান শব্দের অর্থ হলো ছাত্র। তবে ফারসি ও উর্দু ভাষায়ও তালেবান শব্দটির প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। কুড়ি থেকে পঁচিশ বছর বয়সী একদল গোঁড়া, ধর্মভীরু, ধর্মীয় অনুশাসনে বিশ্বাসী মাদ্রাসা ফেরত ছাত্র নিজেদের বিপ্লবী ধর্মযোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলে এবং আফগানিস্তানে তালেবান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং অন্যান্য অঞ্চলের রিফিউজি ক্যাম্পের মাদ্রাসাসমূহে অধ্যয়নরত আফগান তরুণ এবং বহুসংখ্যক পাকিস্তানি স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গড়ে উঠে তালেবান বাহিনী। ছাত্রদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি হলেন মোল্লা ওমর। আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার প্রদেশে ১৯৯৪ সালে তালেবানদের উত্থান ঘটে। এরপর তারা আস্তে আস্তে সমগ্র কান্দাহারে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

যুক্তরাষ্ট্র সমাজতন্ত্র ঠেকানোর জন্য তালেবানদের উত্থানে সহযোগিতা করলেও তালেবানদের মাধ্যমে ইসলামের উত্থানে শঙ্কিত হয়ে আবার সেই তালেবানদের বিরোধিতা করতেও দ্বিধা করে নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *