ডার্ক-ওয়েব-ইন্টারনেট-জগতের-অন্ধকার-রাজ্য
প্রযুক্তি বিজ্ঞান

ডার্ক ওয়েব : ইন্টারনেট জগতের অন্ধকার রাজ্য

ডার্ক ওয়েব হল ইন্টারনেটেরই বড় একটি অংশ যা রয়ে গেছে লোকচক্ষুর আড়ালে। বিভিন্ন তথ্যানুসারে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ৯৮% সেই ডিপ ওয়েবে (যা প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনে খুঁজে পাওয়া যায় না) লুকায়িত ! আরও বলা হয়- সারফেস ওয়েব (ইন্টারনেটের যে দুনিয়ায় জনসাধারণের অবাধ প্রবেশ) তা ডিপ ওয়েবের ৫০০ ভাগের মাত্র এক ভাগ। ডিপ ওয়েবের একাংশ যেখানে কৌশলে প্রবেশ করা যায় তা ডার্ক ওয়েব নামে পরিচিত। ডার্ক ওয়েবের আরেক নাম ডার্কনেট।

psf the deep web
image source : Pinoy Secret Files

ডার্ক ওয়েব এর প্রচলিত ব্রাউজার ও সার্চ ইঞ্জিন ডার্ক ওয়েবের অ্যাকসেস নিতে পারে না। এর জন্য বিশেষ ব্রাউজার ও পৃথক সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। মূলত, একান্তভাবে যোগাযোগের জন্য বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য তৈরি এই ডার্ক ওয়েব। গোপনীয়তার সুরক্ষায় ধীরে ধীরে এখানে মিলিত হতে শুরু করে অপরাধীরা। অপরাধপ্রবণ মানুষের আনাগোনা এখানে প্রচুর বলে তাই প্রবেশ করতে হয় নিজেকে লুকিয়ে।

ডার্ক ওয়েব কি

ডার্ক ওয়েব এ আপনারা হয়তো Tor এর নাম শুনেছেন। এটার দ্বারা আপনি আপনার পরিচয় গোপন করে ইন্টারনেটে বিচরণ করতে পারবেন। এই টর মার্কিন নৌবাহিনী তৈরী করেছিল। এটা তারা তৈরী করেছিল কারণ যুদ্ধের সময় সামরিক তথ্য আদান প্রদানের সব পন্থা নষ্ট হয়ে গেলে তারা সাধারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে যাতে সুরক্ষিত ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।এবার Tor Hidden Services ব্যবহার করে আপনি গোপন ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারেন। সাধারণ ওয়েব সাইটের শেষে যেমন .com, .org, .in, .us থাকে সেরকম এই গোপন ওয়েবসাইট গুলোর শেষে .onion থাকে। টরের আরেক নাম ওনিয়ন রাউটার কারণ এখানে একজনের পরিচয় পেঁয়াজের খোসার মতো একের পর এক লেয়ারের পিছনে লুকানো থাকে।

tor browser 0 43 29
image source : Tor Blog – Tor Project

টর নেটওয়ার্কে বিভিন্ন কম্পিউটারে আছে যারা আপনার হয়ে ওয়েব সাইট রিকোয়েস্ট করে। এই রিকোয়েস্ট বিভিন্ন কম্পিউটারে রিলে হয়ে এবং সার্ভার ভাবে এটা অন্য জায়গা থেকে আসছে।তো এই গুপ্ত ওয়েবসাইট গুলো কেবল মাত্র টর ব্যবহার করে খোলা যায় এবং যদি আপনি ওয়েবসাইটের নাম না জানেন সে ক্ষেত্রে টর ব্যবহার করেও এই ওয়েবসাইট আপনি খুলতে পারবেন না। এই কারণে অসামাজিক ব্যক্তিরা গোপন ওয়েবসাইট খুলে তাতে অনৈতিক এবং অসামাজিক কাজ করে যেমন ড্রাগ বেচা, বন্দুক বেচা, মানুষ বেচা এরকম হরেক রকম বস্তু বেচা যা সাধারণ ভাবে বেআইনি। এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলো ডার্ক ওয়েবের আওতায় আসে।

ডার্ক ওয়েব এ বেচা কেনা ছাড়াও জঙ্গি এবং উগ্রপন্থীরা ফেসবুকের মত ওয়েবসাইট বানিয়ে তাতে তথ্য আদান প্রদান করে। হামলা বা নাশকতার ছক বানায়। এগুলোও ডার্ক ওয়েবের আওতায় আসে।তবে টরের অনেক ভালো ব্যবহার আছে। চিন, ইরানের মতো দেশে ইন্টারনেট কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে অনেকে টর ব্যবহার করে। জার্নালিস্টরা তাদের সোর্সের সঙ্গে সুরক্ষিত ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করতে ব্যবহার করে টর।

তার মানে ইন্টারনেটে যে সব সাইটগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয় এবং তা ব্যবহার করা হয় অনৈতিক কাজকর্ম করতে সেগুলোকে ডার্ক ওয়েব বলে।

অন্ধকার ওয়েব ব্যবহারকারীদের জন্য প্রস্তাবিত ভিপিএন – ExpressVPN। কেবল এক্সপ্রেসভিপিএন টর ব্রাউজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, অন্ধকারের ওয়েবে এটির নিজস্ব একটি .onion সাইট (এক্সপ্রেসবাটিওলিম.অয়ন) / রয়েছে। এটি আপনাকে গোপনে এক্সপ্রেসভিপিএন এর ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস করতে এবং ভিপিএন অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করতে অনুমতি দেয় – এমনকি আপনি এমন কোনও দেশে থাকেন যা ভিপিএন ব্যবহারকে অস্বীকার করে।

express vpn india
image source : Forrst

ভিপিএন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত প্রস্তাব দেওয়া হয় – তারা আপনার অনলাইন গোপনীয়তা রক্ষা করতে, আপনার পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে এবং আপনার ডিভাইসে এবং যে সমস্ত ডেটা প্রেরণ করা হচ্ছে সেগুলি রক্ষা করতে সহায়তা করে। তবে আপনি যে ভিপিএন ব্যবহার করছেন তা কয়েকটি প্রাথমিক মানদণ্ড পূরণ করেছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

প্রারম্ভিকদের জন্য, আপনি কঠোর তথ্য ধারণ আইন ব্যতীত কোনও দেশের ভিত্তি করে এমন একটি চয়ন করতে চান ExpressVPN যা ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ভিত্তিক। এই জাতীয় শীর্ষ মানের পরিষেবা সরবরাহকারী আপনার গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা ভালভাবে আশ্বাস দেয়।

সৌরজগৎ এর আদ্যোপান্ত আর্টিকেলটি পড়তে এই লেখাটিতে ক্লিক করুন

কী আছে এই ডার্কনেটে ?

এর সবচাইতে ভালো উত্তর হচ্ছে- কী নেই এখানে! যা চাইবেন, সবই আছে ডার্ক নেটে। শুধু খুঁজে নেয়ার পদ্ধতিটা জানতে হবে পারফেক্টলি! আগেই বলা হয়েছে সারফেস ওয়েবের তুলনায় ডার্ক ওয়েব প্রায় ৫০০ গুণ বড়।

istockphoto 823289318 612x612 1
image source : iStock
  • ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের (প্রচলিত ইন্টারনেট জগত) মতো ডার্ক ওয়েবেও আছে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট।
  • ফেসবুক, টুইটার, উইকিপিডিয়া ইত্যাদির আলাদা ভার্সনও আছে ডার্ক ওয়েবের জন্য!
  • বাইরের দুনিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত অনেক সাইট এখনও রয়ে গেছে সেখানে।
  • নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম
  • ডার্ক ওয়েবেও আছে মেইল, ব্লগ এবং সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম।
  • আছে বিভিন্ন অবৈধ ওয়েবসাইটও

টর: ডার্কনেট ব্রাউজার

ডার্কনেটে প্রবেশের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার টর। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের বাইরে এমনকি ব্যবহারকারী কোন মাপের মনিটর ব্যবহার করছেন তাও যেন কেউ জানতে না পারে তাই টর তার ডিফল্ট সাইজ ম্যাক্সিমাইজ করাও সমর্থন করে না!

ডাক ডাক গো

GettyImages 156790685 1
Image source: Tech Crunch

বাইরের দুনিয়ায় আমরা যেমন উঠতে-বসতে হরহামেশা গুগল করি, ডার্ক ওয়েবে কিছু খুঁজে পেতে ডাক ডাক গো তেমনি জনপ্রিয়

দ্যা হিডেন উইকি

main qimg 80e625ea49570aaff2c09cb6401664dd
Image Source : Quora

ডার্ক ওয়েবের জন্য উইকির আছে হিডেন ভার্সন

প্রফেশনাল অপরাধী ভাড়া

নিজেকে প্রফেশনাল অমুক/তমুক অপরাধী আখ্যা দিয়ে কেউ কেউ এখানে নিজেকেও ভাড়া দিয়ে থাকে

ডার্ক ওয়েব পেমেন্ট সিস্টেম

download 1
source image : Finance Magnates

ডার্ক ওয়েবে লেনদেনের জন্য বিটকয়েন নামক মুদ্রা ব্যবহার করা হয়। ইন্টারনেট অবলম্বনে ১ বিটকয়েন = ৩,৪১,৮১৩ টাকা বলে জানা গেছে।

তাহলে কি ডার্কনেট অপরাধের স্বর্গ?

মোটেও না, ২০১১ সালে খোদ টর ব্রাউজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে এটি আসলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার নিজস্ব প্রোডাক্ট, এবং এটি মূলত অপরাধীদের সনাক্ত করতেই উন্মুক্ত করে দেয়া!

হ্যাপি ব্রাউজিং!

টর নিয়ে ডর থাকুক আর নাই থাকুক, সারফেস ওয়েবে যেমন কোনো অনিরাপদ সাইটে প্রবেশ করতে চাইলে ব্রাউজার বাধা দেয়, সতর্ক করে ডার্ক ওয়েবে কিন্তু এর কোনো বালাই নেই, উপরন্তু অচেনা-অজানা ব্যবহারকারী ও প্রফেশনাল হ্যাকার তো আছেই। তাই, আগ্রহ থেকেও ডার্ক ওয়েব নিয়ে না ভাবাই বুদ্ধিমানের লক্ষণ। 

তথ্যসুত্র : উইকিপিডিয়া

ব্ল্যাক হোল রহস্য আর্টিকেলটি পড়তে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *