টেলিভিশন আবিষ্কার - TothoBari
টেলিভিশন আবিষ্কার
ইতিহাস প্রযুক্তি বিজ্ঞান

টেলিভিশন আবিষ্কার

মানুষ প্রথম যখন রেডিওতে বহু দূরের গান ও কথা শুনেছিল, সেদিন অবাক হয়েছিল সবাই। তখন হয়তো কণ্ঠস্বর শুনে মনে মনে গায়ক ও কথকের চেহারা দেখবার ইচ্ছে করত কিন্তু তখন হয়ত কেউ ভাবে নি যে, তাদের এ আশা বৈজ্ঞানিক অপূর্ণ রাখবে না।

আবিষ্কারঃ

ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে টেলিভিশন আবিষ্কার করে মানুষের এ বহুদিনের আশা-আকাঙ্খা পূর্ণ করলেন। অবাক করে দিলেন পৃথিবীর মানুষকে। এখন আমরা কথার সাথে কথককেও দেখতে পাই। গানের সাথে সাথে গায়ককেও দেখি। অভিনয়ের সাথে অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের স্বচক্ষে দেখি।

টেলিভিশন কীঃ

টেলিভিশন বিংশ শতাব্দীর সর্বাধুনিক বিষ্ময়কর আবিষ্কার। ‘টেলি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে দূরত্ব আর ‘ভিশন’ কথার অর্থ দৃশ্য। তাহলে বলা যায়, দূরে বসে যে যন্ত্রের মাধ্যমে নানা দৃশ্য বা ছবি দেখা যায় তাই টেলিভিশন।

পদ্ধতিঃ

‘টেলি’ ও ‘ভিশন’ মিলে হয়েছে টেলিভিশন।‘টেলি’ অর্থ দূর আর ‘ভিশন’ অর্থ দর্শন। অতএব টেলিভিশন হল দূরদর্শন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে দূরকে দেখা যায়। এখন প্রশ্ন হল কীভাবে টেলিভিশনের কাজকর্ম চলে। কথা না হয় আকাশে অবস্থানরত ইথারে উপর ভর দিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, ছবি কীভাবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পাঠানো হয়? টেলিভিশনের প্রেরকযন্ত্র বক্তার ছবিকে বিন্দু বিন্দু করে বিদ্যুৎ তরঙ্গের মাধ্যমে আকাশে ছড়িয়ে দেয়। ছবির এ খণ্ডাংশগুলো গ্রাহক যন্ত্রে ধরা দেয় এবং গ্রাহকযন্ত্র ছবির অংশগুলো যথাযথভাবে স্থাপন করে পূর্ণ ছবিটি অবিকলভাবে দর্শকদের চোখের সামনে হাজির করে।

ব্যবহারঃ

টেলিভিশন আনন্দদানকারি যন্ত্র। কিন্তু শিক্ষা বিস্তারেও এর ভূমিকা লক্ষণীয়। এর মাধ্যমে পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে তা জানতে এবং চোখে দেখতে পারি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডর সাথে সাথে এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সংবাদ, গান, কথিকা, নাটক ইত্যাদি এর মাধ্যমে প্রচারিত হয়। জননেতারা তাদের বক্তব্য এর মাধ্যমে প্রচার করার সুযোগ পান।

উপকারিতাঃ

টেলিভিশন নিছক চিত্তবিনোদন ছাড়াও আমাদেরকে নানাভাবে উপকার করে। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের সাথে সাথে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানও টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। টেলিভিশনের মাধ্যমে কৃষি, শিল্প, পরিবার-পরিকল্পনা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। সুতরাং এদিক থেকে টেলিভিশনের উপকারিতা যথেষ্ট।

অপকারিতাঃ

কুরুচিপূর্ণ ও অপরাধমূলক ছায়াছবি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীল হালকা চটুল গান প্রচার করে টেলিভিশন জনগণের নৈতিক অধঃপতন আনতে পারে। টেলিভিশনে আসক্তি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হতে পারে।

বর্তমান সময়ে টেলিভিশন খুবই জনপ্রিয় এবং সর্বক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.