জাবতী প্রথা বা রায়তওয়ারী প্রথা কী

জাবতী প্রথা

সম্রাট আকবরকে মোঘল ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার জনক বলে অভিহিত করা হয়। তিনি শেরশাহের রাজস্ব নীতির অনুসরণে ভূমির প্রকারভেদ, বিঘাপ্রতি উৎপন্ন ফসলের গড় নির্ণয় ইত্যাদির ভিত্তিতে ১৫৮৫ সালে নিজস্ব রাজস্ব ব্যবস্থা চালু করেন।

জাবতী প্রথাঃ

এ নতুন ব্যবস্থায়, ভূমিজাত দ্রব্যের ভিত্তিতে রাজস্ব নির্ধারণের পরিবর্তে নগদ টাকায় রাজস্ব হার নির্ধারণের নীতি গৃহীত হয় এবং তা প্রয়োগের লক্ষ্যে সমশ্রেণির কৃষি এলাকা সম্বলিত বিভিন্ন পরগণা সমবায়ে রাজস্ব বিভাগ গঠিত হয়। প্রত্যেক বিভাগের জন্য পৃথক রাজস্ব তালিকা তৈরি হয় এবং বিভিন্ন ভূমিজাত পণ্যের জন্য বিভিন্ন হার নির্ধারিত হয়। এ রাজস্ব ব্যবস্থাকে অনেকে টোডর মল বন্দোবস্ত বলে থাকে। এ ব্যবস্থা অনুযায়ী জরিপকৃত জমির উৎপাদিত শক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা অনুসারে সকল চাষের জমিকে পোলজ, পারউতি, চাচার, বানজার এ চার ভাগে ভাগ করা হয়।

উৎপাদন অনুসারে প্রথম তিন শ্রেণির জমিকে আবার উত্তম, মাধ্যম ও অধম এ তিন পর্যায়ে বিভক্ত করে প্রত্যেক শ্রেণির বিঘা প্রতি উৎপাদনের গড় হিসেব করে শস্যের এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব ধার্য্য করা হত। এ রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল রায়তওয়ারী অর্থাৎ রায়তের সাথে সরকারের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল, কোন মাধ্যম বা মধ্যস্বত্ব ছিল না। একে জাবতী বা জাব্বতী ব্যবস্থাও বলা হত। জাবতী ব্যবস্থায় কৃষকদের অনেক সুবিধা হয়।

১. সরকারের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ায় রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীদের নির্যাতন হতে তারা রক্ষা পায়।

২. রাজস্বের পরিমাণ অতিরিক্ত মনে হলে তারা জমি জরিপ ও রাজস্বের হার পুনঃবিবেচনার জন্য সরাসরি সরকারের নিকট আবেদন করতে পারত।

৩. সেচ, বন্যা বা দুর্ভিক্ষের কারণে জমি চাষ বন্ধ থাকলে রাজস্ব মওকুফ করা হত।

তবে আকবরের এ ব্যবস্থা সমগ্র সাম্রাজ্যে কার্য্যকর হয়নি। সুলতান, বিহার, গুজরাট, দিল্লি, আগ্রা, আজমীর মালয় ও রাজপুতনার কিছু অংশে ইহা প্রবর্তিত হয়। সাম্রাজ্যের অন্যান্য অংশে একাধিক রাজস্ব ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।

আকবরের রাজস্ব ব্যবস্থা ছিল বাস্তববাদী ও সুচিন্তিত। তিনি পূর্ববর্তী আমলের রাজস্ব ব্যবস্থার বিশৃঙ্খল অবস্থা ও অনিয়ম দূর করে সুষ্ঠু রাজস্ব কাঠামোর রূপদান করেন এবং সে সাথে জনগণেল স্বার্থ রক্ষা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.