images 13
মহাবিশ্ব

ছায়াপথ কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল?

ছায়াপথ হচ্ছে মহাবিশ্বের অন্যতম প্রধান স্থাপনা! গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ মহাকর্ষীয় শক্তি দ্বারা আবদ্ধ একটি অতি বৃহৎ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা যা তারা, আন্তঃনাক্ষত্রিক গ্যাস ও ধূলিকণা, প্লাজমা এবং প্রচুর পরিমাণে অদৃশ্য বস্তু বা ডার্ক ম্যাটার দ্বারা গঠিত। একটি আদর্শ ছায়াপথে ১০ মিলিয়ন থেকে এক ট্রিলিয়ন পর্যন্ত তারা থাকে যারা সবাই একটি সাধারণ মহাকর্ষীয় কেন্দ্রের চারদিকে ঘূর্ণায়মান। কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে কিভাবে এতবড় ছায়াপথ সৃষ্টি হয়েছে?

images 12

ছায়াপথ সৃষ্টি

ধারণা করা হয়ে থাকে, ‘বিং ব্যাং (Big Bang)’ এর ঠিক ৩ মিনিটের ওই মহা বিস্ফোরণে সৃষ্টি হয়েছিল দুটি অন্যতম মৌলিক পরমাণু, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। আস্তে আস্তে সময়ের পরিক্রমণে সৃষ্টি হয় প্রচুর পরিমাণ ইলেক্ট্রন, প্রোটন, নিউট্রন এবং ইলেক্ট্রন প্লাজমা। সব মিলিয়ে যে বিপুল বস্তুকণার সমাবেশ ঘটেছিল, সেগুলো প্রচণ্ড গতিতে বিগব্যাং -এর কেন্দ্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। বলাই বাহুল্য, এই সময় এই সকল কণিকাও ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। ক্রমে ক্রমে এগুলো শীতল হতে থাকলো এবং এদের ভিতরের আন্তঃআকর্ষণের কারণে- বস্তুপুঞ্জ কাছাকাছি চলে এসেছিল। স্থান বিশেষে দলবদ্ধ বস্তুপুঞ্জের ঘনত্বের বৃদ্ধির ফলে কোন কোন অংশে সৃষ্টি হয়েছিল অতিরিক্ত মহাকর্ষীয় আকর্ষণ।

এই আকর্ষণের ফলে একটি ঘূর্ণনগতির সৃষ্টি হয়েছিল। অঞ্চল বিশেষে বস্তুপুঞ্জের আকর্ষণ ক্ষমতার তারতম্যে নিজস্ব এলাকার ব্যাপ্তি কম-বেশি ছিল। যে সকল অঞ্চলে অল্প জায়গার মধ্যে বিপুল বস্তুর সমাবেশ ঘটেছিল, সে সকল অঞ্চল বেশি দ্রুত গতিতে ঘুরতো। এই ঘূর্ণন গতির কারণে মহাকাশের মেঘগুলো একটি ঘূর্ণায়মান চাকতিতে পরিণত হয়েছিল। অন্য দিকে যে সকল অঞ্চলে পর্যাপ্ত ঘূর্ণনগতি লাভ করতে পারে নি, সে সব অঞ্চলে বস্তুপুঞ্জ ডিম্বাকৃতির পিণ্ডে পরিণত হয়েছিল। এই জাতীয় বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বস্তুপুঞ্জসমূহ বিভিন্ন আকৃতির একক দল গঠনে সক্ষম হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ার ফসলই হলো মহাকাশের গ্যালাক্সি। আমাদের সৌরজগৎ এমনি একটি গ্যালাক্সি হলো- ছায়াপথ (Milky way)। ধারণা করা হয় প্রায় ১ হাজার কোটি বৎসরের দিকে আদি গ্যালাক্সিগুলো সৃষ্টি হয়েছিল। আর আমাদের ছায়াপথ সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ১৩৬০ কোটি বছর আগে।

১৯২৪ সালের আগে মানুষ মনে করত, আমাদের সৌরজগতের বাহিরে হয়ত আর কিছুই নেই। সে বছর বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের আবিষ্কৃত হাবল টেলিস্কোপের মাধ্যমে মানুষ সর্বপ্রথম বহু দূরের কিছু নীহারিকা আর উজ্জ্বল তারকা সন্ধান করতে সফলতা লাভ করে। এরপরে একে একে আসতে থাকে মহাকাশ বিজ্ঞানে অকল্পনীয় পরিবর্তন! এসবেরই নতুন সংযোজন ব্যাক হোল বা কৃষ্ণ-গহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হওয়া। যেখানে রয়েছে আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যার অভাবনীয় অবদান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *