গ্রহ কি?

images 1

যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো নেই, তাদের গ্রহ বলে। যেমন – পৃথিবী, বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি ইত্যাদি। এক কথায় যেসব বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদেরকে গ্রহ বলা হয়।

গ্রহের সংজ্ঞা এই শব্দযুগলটি প্রাচীন গ্রীকদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, যা মহাবিশ্বে অবস্থিত বিভিন্ন মহাকাশীয় বস্তুদের মধ্যে কাদের গ্রহ বলা যাবে তা বিস্তৃত পরিসরে ব্যাখ্যা করেছে।

images

গ্রহ কাকে বলে?

গ্রহ এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা কী হবে, তা উনিশ শতকেও অনির্দিষ্ট ছিল। তবে উনিশ শতকের শেষ দিকে, ১৯৯২ এর পর, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা নেপচুনের কক্ষপথের পর অন্যান্য আবর্তিত শত শত বস্তু আবিষ্কার করতে শুরু করলেন। এই আবিষ্কারগুলি শুধুমাত্র সম্ভাব্য গ্রহগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করেনি, তবে তাদের বৈচিত্র্য এবং বিশেষত্বগুলিও বিস্তৃত করেছে। কিছু কিছু প্রায় বিভিন্ন তারার ন্যায় বড় ছিল, আবার কিছু কিছু পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ক্ষুদ্র ছিল। এই আবিষ্কারগুলি “কোনও গ্রহের সংজ্ঞা কেমন হতে পারে?” এ সম্পর্কে চলে আসা দীর্ঘদিনের ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে। ২০০৫ সালে নেপচুন-পরবর্তী মহাকাশীয় বস্তু “এরিস” আবিষ্কৃত হওয়ার পর গ্রহের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। এরিস তখন স্বীকৃত গ্রহ প্লুটোর চেয়ে আকৃতিতে বড় ছিল।ফলশ্রুতিতে, ২০০৬ সালের আগস্টে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (আইএইউ),প্রাগ শহরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে। এই সংজ্ঞাটি কেবল সৌরজগতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সংজ্ঞা অনুসারে, গ্রহ হলো এমন একটি মহাকাশীয় বস্তু যা সূর্যকে ঘিরে আবর্তন করে, এটি তার নিজস্ব মহাকর্ষ বলের জন্য গোলাকৃতি ধারণ করে এবং তার কক্ষপথে অন্য কোনো ছোট মহাকাশীয় বস্তুর অবস্থান থাকবে না। এই নতুন সংজ্ঞা অনুসারে, প্লুটো এবং অন্যান্য নেপচুন-পরবর্তী মহাকাশীয় বস্তুগুলি গ্রহ হিসাবে পরিচিতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে না। আইএইউর সিদ্ধান্ত সকল বিতর্ককে সমাধান করেনি, এবং যদিও বেশিরভাগ বিজ্ঞানী এই সংজ্ঞাটি গ্রহণ করেছেন, তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানের কিছু সম্প্রদায় এটিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.