ক্যাপিচুলেশন ব্যবস্থা বলতে কি বুঝ?

ক্যাপিচুলেশন

তুরস্কের ওসমানীয় সাম্রাজ্যের ইতিহাসে ক্যাপিচুলেশন প্রথা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্যাপিচুলেশন প্রথা ওসমানীয় সাম্রাজ্যে বিশেষ সুবিধা সংবলিত একটি প্রথা। ষোলো শতকে থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগ পযর্ন্ত এ প্রথা বলবৎ ছিল।

ওসমানীয় সাম্রাজ্যে ক্যাপিচুলেশন একটি সুনির্দিষ্ট প্রথা বা ব্যবস্থা হিসেবে উদ্ভূত হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, ক্যাপিচুলেশন চুক্তিবদ্ধ সম্প্রদায়গুলো বা বিদেশি নাগরিকগণ রাষ্ট্রীয় আইনের বহির্ভূত ছিল এবং নিজস্ব আইন-কানুন দ্বারা পরিচালিত হতো। তারা একটি সুরক্ষিত ও নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করতো।

ক্যাপিচুলেশন প্রথা

ক্যাপিচুলেশন প্রথার সর্বপ্রথম উদ্ভব ঘটে মধ্যযুগে রোমান সাম্রাজ্যে। অতঃপর বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যেও বিদেশি নাগরিকদের এ ধরনের কিছু সুযোগ-সুবিধার প্রমাণ পাওয়া যায়। আব্বাসীয় খেলাফতের শেষের দিকেও বিদেশি নাগরিকরা আরব সাম্রাজ্যে বিশেষ অধিকার ভোগ করতে। এছাড় ফিনিশীয়রাও আমেরিকায় এরূপ অধিকার ভোগ করতো বলে জানা যায়। তুরস্কের ইতিহাসে ক্যাপিচুলেশন সিস্টেম বলতে ওসমানীয় সাম্রাজ্যে বিদেশি নাগরিকদের দেয় বাড়তি সুযোগ-সুবিধা বা এক্সট্রা টেরিটোরিয়াল রাইটসকে বুঝায়।

বিদেশি নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার্থে তাদের জান-রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করে তুরস্ক সুলতান যে চুক্তি সম্পাদন করেন মূলত তাকে ক্যাপিচুলেশন প্রথা বলা হয়। ষোলো শতক থেকে বিশ শতক পযর্ন্ত এ প্রথা বলবৎ ছিল। এ প্রথা ছিল মিল্লাত ব্যবস্থার অনুরূপ, কিন্তু একে বহিরাগত মিল্লাত বলা হতো। তুরস্কের সুলতানগণ বিভিন্ন সময় বিদেশিদের সাথে ন্যুনতম ১৩৬টি ক্যাপিচুলেশন চুক্তি সম্পাদন করেন। সুলতান দ্বিতীয় মুহম্মদ ১৪৫২ এবং ১৪৫৪ সালে যথাক্রমে জেনোয়া ও ভেনিসে দুটি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ১৫২১ সালে মহামতি সুলায়মান অনুরূপ একটি চুক্তি ভেনিসে স্বাক্ষর করেন।

প্রকৃতপক্ষে ক্যাপিচুলেশন সিস্টেম ছিল তুরস্কের জন্য আত্মঘাতী। এ চুক্তির দ্বারা তুরস্কই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অটোমান সাম্রাজ্যের দুর্বলতার যুগে তুর্কিরা একটি যুদ্ধ পরাজিত হলে সে সুযোগে ক্যাপিচুলেটরি শক্তিগুলো নিজেদের অনুকূলে নতুন ক্যাপিচুলেশন শর্ত চাপিয়ে দেয়। ১৯৩৬ সালের মন্ট রেক্স সম্মেলনে ক্যাপিচুলেশন প্রথার সম্পূর্ণ উচ্ছেদ সাধন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.