কোতোয়াল কাকে বলে?

কোতোয়াল কাকে বলে

সুলতানী আমলের বিচার ব্যবস্থায় কোতোয়ালের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আরব খেলাফতকালে পুলিশ প্রধান ‘সাহিব-আল-শূরতা’ নামে অভিহিত হতেন। কিন্তু দিল্লির সুলতানের আমলে পুলিশ প্রধানকে কোতোয়াল বলা হত।

কোতোয়ালের কাজঃ

বড় বড় শহরের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কোতোয়াল নামক কর্মকর্তা নিযুক্ত থাকতেন। তিনি ছিলেন বিশেষভাবে পুলিশ প্রধান এবং শহর ও শহরতলীর রক্ষক। তার কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা, ওয়ারিশ বিহীন সম্পত্তি উদ্ধার করা ও বাজেয়াপ্ত করা, অপরাধ, সামাজিক বিশৃঙ্খলাও অনাচার দূর করা, চুরি-ডাকাত দমন করা।

এ সকল দায়িত্ব পালনের জন্যে কোতোয়াল কিছু সংখ্যক অশ্বারোহী ও পদাতিক সৈন্য এবং পুলিশ বাহিনীর সাহায্য পেতেন। তিনি প্রশাসনের সুবিধার জন্য বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ি বসাতেন এবং সেখানে বিশ্বস্ত কর্মকর্তা প্রেরণ করতেন। কোতোয়াল নগরের অধিবাসীদের তালিকা প্রস্তুত করতেন। তিনি বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতেন এবং কেউ যাতে অলসভাবে বসে না থাকে সেদিকেও নজর দিতেন। পরিব্রাজক মানুচী লিখেছেন, কোতোয়ালকে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করতে হত, শহরে যেন কোন ব্যভিচার, বেহায়াপনা না চলে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হত, চোর-ডাকাতদের গ্রেফতার ও কাজীর হুকুম তামিল করতে হত।

কোতোয়াল আধুনিক কালের ম্যাজিষ্ট্রেট এর দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি প্রয়োজন বোধে ফৌজদারী অপরাধের বিচার করতেন। তিনি সাধারণত চিরাচরিত রীতি-নীতি অনুসরণের মাধ্যমে বিচার কার্য্য করতেন। কিন্তু কাজী ইসলামী শরিয়ত আইন অনুসরণ করে বিচার, কার্য্য সম্পাদন করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.