কুর্দি কাদের বলা হয়?

কুর্দি

কুর্দিরা জাতিতে আরব গোত্রীয় কিন্তু সংস্কৃতিতে ভিন্ন, অনেকটা পাহাড়ি আরব। তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। অটোমান শাসনামলে তাদের এ জাতি ও কৃষ্টিগত ভিন্নতার সম্বলকে কেন্দ্র করে তাদের জন্য সরকার আলাদা প্রদেশ গঠন করে।

কুর্দিদের পরিচয়

কুর্দিরা হলো ইরাকে বসবাসকারী একটি সম্প্রদায়। তাদের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাদের যথেষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। কিন্তু ব্রিটিশ ম্যান্ডেটরি শাসনামলে মসুল, বাগদাদ ও বসরার সাথে একত্রিত করে ইরাক নামে একটি নতুন দেশের সৃষ্টি করা হয়। কুর্দিরা তার প্রতিবাদ করে। কিন্তু কোনো ফল হয় নি। প্রকৃতপক্ষে ইরাকের কুর্দি সমস্যা তখন থেকেই আরম্ভ। কুর্দিরা বর্তমানে তুরস্ক, ইরান, জর্জিয়া ও ইরাকে ছড়িয়ে আছে। বৃহদংশ তুরস্কে (জনসংখ্যার ২০%), ইরাকে ১৫%, ইরানে ৮% অধিবাসরত। কুর্দিদের সমস্যা বর্তমানে তুরস্কেই বেশি। তবে ইরাকে ১৯৫৮ সালের অভ্যুত্থানের পর সুযোগ বুঝে তারা আবার উত্থানের প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের আশ্বাসে ১৯৬২ সালের বিদ্রোহের প্রশমন হয়। মসুল ইরাকিদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ মসুল প্রদেশেই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাসমূহ অবস্থিত। ফলে বা’য়াছ শাসন প্রথম থেকেই এ তেল সম্পদ রক্ষার্থে বিশেষ তৎপর হয়। ১৯৭০ সালে সাদ্দাম হোসেন কুর্দিদের বশে আনতে প্রচেষ্টা চালান এবং ১৯৬২ সালে আবার স্বায়ত্তশাসনের অঙ্গীকার করে। কিন্তু এ অঙ্গীকার অঙ্গীকারেই সীমাবদ্ধ থাকে।

ইরাক কুর্দি জনগোষ্ঠীর এক বৃহদংশকে বাগদাদ এবং বসরা প্রদেশে স্থানান্তর করে এবং তা পরিপূরণে কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে পূর্ণ আরবদের মসুলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেয়। এতে কুর্দি জটিলতা কিছুটা হলেও হ্রাস পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.