কুফিক লিখন পদ্ধতি কি?

কুফিক লিখন পদ্ধতি

কুফিক লিখনরীতি মুসলিম হস্তলিখন শিল্পের প্রধান ধারা। ইরাকের কুফা নগরীতে এ ধারার উদ্ভব হয়ে হলে ইহা কুফিক রীতি নামে পরিচিত। হযরত ওমর (রাঃ) এর সময়ে এ রীতি সরকারিভাবে ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার

ইসলামের প্রাথমিক যুগে ওহী বা ঐশীবাণী এ পদ্ধতিতে লিখে রাখা হতো বলে এ বর্ণমালাকে পবিত্র বলে মনে করা হতো। শক্ত উপাদানে লিখার কারণেই তা কৌণিক আকার ধারণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রীতি মসৃণ চামড়া, হাড়, সমতল প্রস্তর, কাষ্ঠ ফলক, মৃৎপাত্র, দলিল ও মুদ্রায় ব্যবহৃত হতো।

কুফির প্রকারভেদ

আরবরা পারসিক লিপি শৈলীর অনুকরণে বিভিন্ন কুফি পদ্ধতির প্রবর্তন করেন। যেমন- জলী বা স্পষ্ট, সিলোজাত, সালাসী, মিফতা, হেরেম প্রভৃতি। ব্যাকরণবিদ খলিল ইবন আহম্মদ (১৭০ হিঃ) এবং আলী ইবনে কুসাইরের ঐকান্তিক চেষ্টায় কুফী লিপি শৈলীর উৎকর্ষতা চরম শিখরে পৌঁছায়।তারা লিপি শৈলীর যে উৎকর্ষ সাধন করেন তা আজ পযর্ন্ত অব্যাহত রয়েছে। কুফির এক লিপি শৈলী থেকে অন্য শৈলীর পার্থক্য নিরূপণ করা যায় তাদের লম্বা রেখার সঙ্গে অসমকোণের অনুপাতের তারতম্যে, লম্বা রেখা এবং অসমকোণের মধ্যবর্তী বক্ররেখা এবং সর্বোপরি একটি অক্ষরের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের অনুপাত দ্বারা।

কুফিক রীতিতে সৌন্দর্য্য বিরাজ করলেও অত্যাধিক কৌণিক ও জটিলতার ফলে ইহা কালক্রমে শুধু অলঙ্কারিক পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.