কী এই হোয়াইট হোল বা শ্বেত বিবর?

হোয়াইট হোল
images 5

ছবি- scienceabc

বিজ্ঞানের ভাষায় পদার্থের ধ্বংস নেই, তা কেবল এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে রূপান্তরিত হয়, ঠিক তেমনি ব্ল্যাকহোলও একসময় এর ভেতরকার সমস্ত জ্বালানি শেষ করে দিয়ে অন্য ধর্মে রূপান্তরিত হবে, আর সেই ধর্মটাই হচ্ছে হোয়াইট হোল। ব্ল্যাকহোল যেমন এর ভেতরে আলো বা শক্তি সবকিছু টেনে নিয়ে বের হতে দিতো না, তেমনি হোয়াইট হোল এর ভেতরে কোনো পদার্থ, আলো বা শক্তি ঢুকলে তা বের করে দিয়ে দ্বিতীয়বার আর কখনো ঢুকতে দিবে না। অর্থাৎ ব্ল্যাকহোলের সম্পূর্ণ বিপরীত প্রক্রিয়া হোয়াইট হোল বা শ্বেত বিবরে সংঘটিত হবে। 

মহাবিশ্বের রহস্যময় বস্তু ব্ল্যাকহোল নিয়ে মানুষের আগ্রহের যেমন সীমা নেই, তেমনি ব্ল্যাকহোল এর মতোই হোয়াইট হোল বা শ্বেত বিবর নিয়েও রহস্যের শেষ নেই। শ্বেত বিবর হলো ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের বিপরীত অবস্থা। ব্ল্যাকহোল যেমন সবকিছু এর নিজের ভেতরে টেনে নিয়ে নেয়, তেমনি হোয়াইট হোল এর ভেতরের সবকিছু টেনে বাইরে বের করে দেয়। আর তাই শ্বেত বিবর বেশ উজ্জ্বল বর্ণের হয়। আমরা যদি সময়কে উল্টোভাবে নেওয়া শুরু করি তাহলেই সেই বিপরীত সময়কে হোয়াইট হোল বলে মনে হবে। এই প্রক্রিয়াটি বিজ্ঞানের ভাষায় ‘টাইম রিভার্সাল অফ ব্ল্যাকহোল’ বলা হয়।

images 4

ছবি- futurism

ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মতো হোয়াইট হোল বা শ্বেত বিবরেরও ভর, চার্জ, কৌনিক ভরবেগ আছে। হোয়াইট হোল সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বের সূত্রগুলোর একটি সম্ভাব্য সমাধান। এই তথ্যানুসারে যদি মহাবিশ্বে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ব থাকে তাহলে হোয়াইট হোলও থাকা উচিত। ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি’র পদার্থবিজ্ঞানী সিন ক্যারল (Sean Carroll) হোয়াইট হোলকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: “ব্ল্যাক হোল হলো এমন একটি জায়গা যেখানে কেউ একবার গেলে আর ফিরে আসতে পারবে না; হোয়াইট হোল হলো এমন একটি জায়গা যেখান থেকে কেউ একবার বের হলে আর সেখানে ফিরে যেতে পারেনা।” হোয়াইট হোল থাকার সবচেয়ে বড় সম্ভাব্যতা হল আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সার্বিক তত্ত্ব। সার্বিক তত্ত্বের সূত্রগুলোর সমাধান থেকে হোয়াইট হোলের ধারণা এসেছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে হয়েছে বিস্তর গবেষণা। শুরুতে কেউ হোয়াইট হোলের ধারণাকে পাত্তা না দিলেও ‘লুপ কোয়ান্টাম গ্র্যাভিটি’ তত্ত্বের ভিত্তিতে হোয়াইট হোল থাকার বেশ সম্ভাবনা আছে। যদিও ব্ল্যাকহোলের প্রমাণ কিংবা ছবি পাওয়া গেলেও হোয়াইট হোলের প্রমাণ এখনও পাওয়া যায় নি। বর্তমানে এর উপর যা গবেষণা হচ্ছে তা কেবলই তাত্ত্বিক হিসেবে আমরা ধরে নিতে পারি। শুধু এটুকুই আমরা ধরে নিতে পারি যে, ব্ল্যাকহোল বা হোয়াইটা হোল দুটোতেই সময়ের প্রবাহ ঘটছে বিপরীত দিকে। ব্ল্যাকহোলে সময় সঠিক নিয়মে চললে হোয়াইট হোলে সময়ের কাঁটা ঘুরবে বিপরীত দিকে। আর হোয়াইট হোলে সময় ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরলে ব্ল্যাকহোলে ঘুরবে বিপরীত দিকে। তবে কোনটিতে সময় কীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.