কামালুদ্দীন বিহযাদ

কামালুদ্দীন বিহযাদ

যে ব্যক্তির অবদানে পারস্য চিত্রকলা গৌরবের স্বর্ণ শিখরে আরোহণ করেছিল। সেই অসাধারণ ব্যক্তিটি হলেন কামাল উদ্দীন বিহযাদ। তার অবদানের কারণেই সুলতান হুসাইন মীর্জার রাজত্বকালে [১৪৬৮-১৫০৬] হিরাটে মুসলিম চিত্রকলার স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। তিনি শুধুমাত্র সাফাভী চিত্র কলার প্রতিষ্ঠাতাই ছিলেন না উপরন্তু বোখরা এবং মোঘল চিত্ররীতির প্রতিভূ ছিলেন।

শিল্পী জীবন

বিহযাদের শিল্প জীবনকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ১৪৬৮-১৫০৬ সাল পযর্ন্ত তিনি তৈমুরী সুলতান হুসাইন মীর্জার পৃষ্ঠপোষকতায় হিরাত চিত্রশালার পরিচালক হিসেবে তিনি তৈমুরীয় চিত্রশিল্পের উৎকর্ষ সাধন করে সাফাভী চিত্রকলার পথ নির্দেশ করেছেন। ১৫০৭-১৫১০ সাল পযর্ন্ত উজবেক সুলতান সায়বানী খানের পৃষ্ঠপোষকতায় হিরাতে শিল্প চর্চা করেন। ১৫১০ সালে বিহযাদ হিরাত হতে সাফাভী বংশের রাজধানী তাব্রিজে গমন করেন এবং সাফাভী বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাহ ইসমাইলের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন ও ১৫২২ সালে রাজকীয় শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক নিযুক্ত হন।

শিল্প কর্ম

চিত্ররীতির নিদর্শন অনুযায়ী সাদীর বুস্তা, নিযামীর খামসা এবং শরফউদ্দীন আলী ইয়াজদীর জাফর নামা ছিল বিহযাদের পাণ্ডুলিপি চিত্রায়ন। প্রতিকৃতি অঙ্কনে তিনি বিখ্যাত ছিলেন। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষ দিকে তিনি হোসাইন মীর্জার প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন। ১৫০৭ সালে তিনি সায়বানী খানের প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন। জটিল বিষয়বস্তুর সুনিপুণ ও তাৎপর্য্য পূর্ণ বিন্যাস, রংয়ের ব্যবহারে গভীরতা ও অন্তর্দৃষ্টি, বিষয়বস্তুর সঙ্গে পটভূমির অপূর্ব সমন্বয়, গোলাকার চিত্র বিন্যাস প্রভৃতি বিহযাদের চিত্র কর্মের বৈশিষ্ট্য ছিল।

জন্ম ও মৃত্যু

কামাল উদ্দীন বিহযাদ ১৪৪০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫২৪ সালে দেহ ত্যাগ করেন। এশিয়ার রেনেসাঁর অগ্রদূত ছিলেন বিহযাদ। তার চিত্রের মধ্যে বিশ্ব প্রেমের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়া যায়। সর্বদিক বিবেচনা করে খন্দমীর বিহযাদকে Wonder of the age বলে ভূষিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.