পাট্টা
ইতিহাস

কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথা কী

শেরশাহের রাজস্ব সংস্কার মধ্যযুগে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা। তিনি পূ্র্বের জোতদারী ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে রায়তওয়ারী প্রথার প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থার ফলে সরকারের সাথে প্রজাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। ভারত বর্ষের ইতিহাসে তার সময়েই সর্বপ্রথম কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার শুরু হয়।

কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথা

কৃষকগণ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব বর্ণনা করে সরকারের কবুলিয়ত নামক দলিল সম্পাদন করে দিত। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ হতে জমির উপর কৃষকদের স্বত্ব স্বীকার করে পাট্টা দেয়া হত। এ নীতির ফলশ্রুতিতে অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি আয়ের পরিমাণ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বহু পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজ্যের কৃষকরাও এর ফলে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভ করে। উভয় দলিলেই প্রজাদের বরাদ্দকৃত ভূমির দাগ ও পরিমাণ উল্লেখ করে দেয়া হত। সমগ্র সাম্রাজ্যের ভূমি জরিপ করে ভূমির উৎপাদিত শক্তি অনুসারে গড়ে উৎপন্ন দ্রব্যের ১/৩ অংশ ভূমি রাজস্ব হিসেবে ধার্য্য করেন। মধ্য যুগের কোন শাসকই শের শাহের ন্যায় প্রজার নিরাপত্তার দিকে লক্ষ্য দিতে পারেননি। রাজস্বের হার ফসলে উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল ছিল বলে কৃষকেরা অসুবিধা বোধ করত না। প্রজারা ফসল বা নগদ অর্থে রাজস্ব পরিশোধ করত।

সম্রাট আকবরও শের শাহের ভূমি সংস্কার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। আকবরের রাজত্ব কালের প্রথম বিশ বৎসর শের শাহের রাজস্বনীতি অনুসৃত হয় এবং এর উপর নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সংশোধন ও সংযোজন করা হয়। শের শাহ সর্ব প্রথম জমির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের জন্য জমি জরিপের ব্যবস্থা করেন। আকবরও এ নীতি গ্রহণ করেন। তবে শের শাহ রশির সাহায্যে জমি জরিপ করতেন, আকবর সেখানে শক্ত বাঁশের দণ্ডের ব্যবস্থা করেন। শের শাহ উৎপাদিত ফসলের ১/৩ অংশ রাজস্বনীতি নির্ধারণ করেন। অবশ্য আকবরের আমলের প্রথম দিকেও এ নীতি গ্রহণ করা হয়। পরে জমির তারতম্য অনুসারে বিভিন্ন প্রকার জমির জন্য বিভিন্ন হার নির্ধারণ করেন। অন্যান্য বিষয়েও আকবর শের শাহের প্রবর্তিত নীতি গ্রহণ করেন।

শের শাহের প্রবর্তিত রাজস্বনীতি মধ্যযুগের এক অনন্যকীর্তি, যা তাকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ শাসকদের মধ্যে অন্যতম স্থান দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *