ঈদে মিলাদুন্নবী কি?

ঈদে মিলাদুন্নবী কি?

মহানবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম এ ধরায় আগমন করেছিলেন ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ২০ এপ্রিল মক্কা নগরীতে কুরাইশ বংশে। আরবি ১২ রবিউল আওয়াল সূর্য্য উদিত হবার আগে তিনি এ পৃথিবীতে আগমন করেন। মুসলমানদের পালনীয় দিনগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি দিন। আর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম এর আগমনের দিন সমগ্র সৃষ্টি জীবের (মানুষসহ) খুশির দিন ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম

মিলাদুন্নবী দিবস কেন পালন করা হয়ঃ

সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহতায়ালা বিভিন্ন নামে নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম-কে আহবান করেছেন। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, “আমি আপনাকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে পাঠিয়েছি।” আল্লাহ আরও বলেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য করুণার মূর্ত প্রতীক হিসেবে প্রেরণ করেছি।”

জীবনের পরতে পরতে তিনি দিয়েছেন মানুষকে আলোর সন্ধান। আর তাইতো ধর্ম-বর্ণ-জাতি, গোষ্ঠী, উঁচু-নিচু-সকল ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে একটি সুমধুর নাম হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম। সকলের কাছে তিনি আল্লাহর প্রেরিত শান্তির দূত নবী ও রসূল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম-এর জীবনাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েই বিশ্ব মুসলিম তথা বিশ্ব মানবতা এ দিবসটি পালন করে থাকে।

সমগ্র পৃথিবী একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পযর্ন্ত যখন অজ্ঞতার আঁধারে নিমজ্জিত ছিলো, তখন নবী হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম সভ্যতার এবং জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে সারা পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন। হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম আগমনের সময় পৃথিবীর গোটা সমাজব্যবস্থা ছিলো অশান্ত। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের শান্তি ছিলো তখন হারাম। এ মুহূর্তে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম আগমনে পৃথিবীতে শান্তির শীতল ছোঁয়া বয়ে গেল।

আমরা সেই মহামানবেরই অনুসারী। আমাদের জীবনে তার গুণাবলির খানিকটা স্পর্শও যদি পাই, তবেই নিজেদেরকে মানুষ রূপে পরিচয় দিতে পারবো। এ উদ্দেশ্যের বশবতী হয়েই আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম দিবস পালন করে থাকি।

মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম উৎসবের বাহ্যরূপঃ

হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম-এর বিচিত্র জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয় এ দিবসটিতে। এ উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সত্তাটিকে মনোজ্ঞভাবে সাজানো উচিত। এতে শিশু শ্রোতারাও মিলাদ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আনন্দ পায়। তারাও বড়দের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আলোচনা শেষে তাওল্লাদ পাঠ করে থাকে। ফলে শিশু হতে বৃদ্ধ পযর্ন্ত সকলের সমাবেশে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়া সাল্লাম এর যে রূপটি ফুটে ওঠে তা অনবদ্য অনুপম এবং অনিন্দ্য সুন্দর।

এ দিন পালনের মাধ্যমে বিশ্বের মুসলমানের মহানবীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সমগ্র বিশ্বে শান্তির দীক্ষা গ্রহণ করা বাঞ্চনীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.