আমিন্স-এর সন্ধি সম্পর্কে কি জান?

আমিন্স

অটোমান সুলতান তৃতীয় সেলিম ১৭৮৯ সালে তুর্কি সিংহাসনে উপবেশন করেন। তিনি অটোমান তুর্কি সাম্রাজ্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। তার রাজত্বকালে যে সকল সন্ধি সম্পাদিত হয় তার মধ্যে আমিন্স-এর সন্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০২ সালে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে এ সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

আমিন্স-এর সন্ধিঃ

সমগ্র বলকান অঞ্চল পদানত করাই নেপোলিয়নের উদ্দেশ্য ছিল। এ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নেপোলিয়ন ১৭৯৮ সালে মিসর আক্রমণ করলে ফ্রান্সের সাথে তুরস্কের সম্পর্কের ক্ষেত্রে চরম সংকট সৃষ্টি হয়। তুর্কি বাহিনী নেপোলিয়নের নিকট পরাজিত হলেও তিনি মিসরে বেশি দিন অবস্থান করা নিরাপদ মনে করেন নি। কারণ ব্রিটিশ নৌ-সেনাপতি লর্ড নেলসন ফ্রান্স হতে নেপোলিয়নের সরবরাহ রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দিতে সক্ষম হন। এছাড়াও নীলনদের সন্নিকটে এক যুদ্ধে নেলসন ফরাসি বাহিনীকে পরাজিত করেন।

ফলে নেপোলিয়ন তার সৈন্যবাহিনীর একাংশ পশ্চাতে রেখে গোপনে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। মিসরে অবস্থানগত ফরাসি সৈন্যগণ ১৮০১ সাল পযর্ন্ত তথায় অবস্থায় করে। অবশেষে ইংরেজ বাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় তুর্কিগণ মিসরকে ফরাসিদের কবল হতে মুক্ত করতে সক্ষম হন। ১৮০২ সালে ফ্রান্স ও তুরস্কের মধ্যে একটি সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে আমিন্স-এর সন্ধি নামে পরিচিত। এ সন্ধির শর্তানুযায়ী ফরাসিয়া মিসর ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ফলে মিসর অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনাধীনের অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮০২ সালে স্বাক্ষরিত আমিন্স-এর সন্ধির শর্তানুযায়ী নেপোলিয়নের দ্বারা বিজিত তুর্কি সাম্রাজ্যের সমস্ত অঞ্চল সুলতানকে প্রত্যর্পণ করা হয়। বিনিময়ে সুলতানের নিকট হতে ফরাসিগণ পূর্বের ন্যায় সকল প্রকার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.