অসলো চুক্তি
ইতিহাস

অসলো চুক্তি কি?

ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের একটি আলোচিত দেশ। ১৯৮৮ সালে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করলে ইসরাইলের বন্ধুরাষ্ট্র আমেরিকা নানাভাবে ফিলিস্তিনকে সাহায্য করে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার নীতি পর্যালোচনা করলে প্রতীয়মান যে, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরাইলকে আরব বিশ্বের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্যেই এ তথাকথিত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শান্তি প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করলে এর সত্যতা প্রকাশ পায়। ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে ১৯৯৩ সালে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা অসলো চুক্তি নামে পরিচিত।

অসলো চুক্তি

১৯৮৮ সালে আলজিয়ার্সে Palestine National Council ইয়াসির আরাফাতকে প্রেসিডেন্ট করে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা দেয়। এর ফলে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়। এমতাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন তথাকথিত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় ইয়াসির আরাফাত ও আইজাক রবিনের মধ্যে ১৯৯৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটাই অসলো চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তি Deetaratiow of Principal (DOP) নামে খ্যাত। এই চুক্তি সম্পাদনের পূর্বে ১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নেয় ইয়াসির আরাফাতের নিকট থেকে।

এর বিনিময়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র প্যালেস্টাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির পরিবর্তে PLO প্যালেস্টাইন জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে এ চুক্তির মাধ্যমে দুটি পক্ষই দ্বন্দ্ব-শত্রুতা পরিহারের ঘোষণা দেয়। ১৭টি অনুচ্ছেদ ও ৪টি সংযোজনী নিয়ে DOP গঠিত হয় এবং সমঝোতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিস্তৃত ব্যাখ্যার অবকাশ রাখা হয়। এ চুক্তির ধারাগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। প্রথম পর্যায়ে পশ্চিম তীর গাজা উপত্যকা এবং জেরিকোতে প্যালেস্টাইনি শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। ১০ মাসের মধ্যে গাজা উপত্যকার ৩৩৫ বর্গমাইল এলাকা হতে ইসরাইলিদের প্রত্যাহার করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রথম পর্যায় সমাপ্তি হওয়ার পশ্চিম তীরের অন্যান্য এলাকায় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তৃতীয় পর্যায় শুরু হবে পশ্চিম তীরে সম্পূর্ণরূপে স্বায়ত্তশাসন শুরু হওয়ার পর।

প্যালেস্টাইনের স্বাধীনতার প্রশ্নে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার নীতি কূটকৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মানুষকে দেখানোর জন্য বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা মূলত আরবদের হাত থেকে ইসরাইলকে রক্ষায় একটি প্রক্রিয়া বিশেষ। ইসরাইল অসলো চুক্তির নিয়মকানুনের শর্ত ভঙ্গ করে, যার ফলে এই চুক্তির কার্য্যকারিতা নষ্ট হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *